২৪ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুষ্ঠ রোগীর পুনর্বাসন

দেশ থেকে কুষ্ঠ রোগ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রায় বর্তমান সরকার সময়োচিত সব ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে প্রত্যয়ী। ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ রোগ প্রতিরোধ উপলক্ষে এক সম্মেলন সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব রোগীর প্রতি সচেতন দায়বদ্ধতা আর মানবিক বোধে এগিয়ে আসা সব মানুষের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। বহু বছর ধরে এই রোগটি অনেক মানুষের জীবনকে হতাশায় ভরিয়ে তুলেছে। যদিও রোগটি সংক্রামক কিংবা ভয়াবহ কিছুই নয়। সামাজিক সংস্কার আর রোগের প্রতি অযৌক্তিক ঘৃণায় আক্রান্ত রোগীরা সব সময়ই তার নিকটজনের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছে। পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং সুরক্ষায় কুষ্ঠ রোগীরা এতদিন সবার কাছে অস্পৃশ্যের মতো ছিল। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ রোগটির বিষয়ে কোন ধরনের বিরূপ স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা নেই। তবে অসুস্থ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং সাধ্যমতো সমস্ত স্বাস্থ্যকর সুরক্ষার প্রতিও বিশেষ নজর দেয়া আবশ্যক। তবে এই রোগটির যথার্থ চিকিৎসায় রোগী এক সময় সুস্থ হয়ে যায়। সে কারণে কুষ্ঠ রোগের প্রতি সাধারণ মানুষের অবজ্ঞা এবং উপেক্ষা করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে প্রধানমন্ত্রী সকলের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, পোলিও এবং হামকে আমরা আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে দূর করতে সক্ষম হয়েছি। সেভাবে কুষ্ঠকেও কোন এক সময় দূরে সরিয়ে দিতে পারব। তবে তার আগে আক্রান্ত কাছের মানুষকে কোনভাবেই দূরে ঠেলা যাবে না। কুষ্ঠ রোগের ওপর এ জাতীয় সম্মেলন ২০১৯-এর উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে আক্রান্ত মানুষের ব্যাপারে আরও সহনীয় এবং নমনীয় হতে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেন। রোগটি ছোঁয়াছে কিংবা দুরারোগ্যও নয়। সময়মতো যথার্থ চিকিৎসায় নিরাময় হওয়ার দৃষ্টান্ত থাকলেও কুষ্ঠ রোগীর দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়ায় পঙ্গু হয়ে যাবার ঘটনা কম নয়। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগকে শনাক্ত করতে পারলে যথার্থ চিকিৎসা প্রদান করা যায়। পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্যকর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন সব মিলিয়ে কুষ্ঠ রোগীকে তার অসুস্থতা থেকে পরিত্রাণ দেয়া যেতে পারে। রোগটি অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করার বিষয় নয়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে রোগীকে সব ধরনের নিরাপত্তা কিংবা সুরক্ষা দেয়া গেলে রোগের উপশম অনেকাংশে কমেও যায়। সমাজ থেকে তাদের আলাদা করা যাবে না। কারণ তারাও সমাজের একজন। এমনকি কর্মক্ষেত্রেও তাদের অবস্থান সুনিশ্চিত অত্যন্ত জরুরী। কারণ এমনটিও দেখা গেছে আক্রান্ত রোগীকে তার কাজের জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। নিজের কাছেরজনেরাও দুশ্চিন্তায়, দুর্ভোগে সময় পার করে। এমনটা হওয়ার কথা নয়। কারণ এক্ষেত্রে রোগী নিজে ভোগে; কিন্তু পাশেরজনকে ভোগায় না। এই কথা সবাইকে অন্তর দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। বরং নিকট আত্মীয়রা পাশে থেকে তার যথার্থ পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্যসম্মত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেয়া মানবিক কর্তব্য। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং উত্তরবঙ্গের কিছু অঞ্চলে এই রোগীর সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশি হলেও অন্যান্য জায়গায়ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এমন রোগীর দেখা মেলে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই রোগকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসতে সরকার সব ধরনের স্বাস্থ্য কর্মসূচীকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশের নামী-দামী ওষুধ কোম্পানি যারা ওষুধ বিদেশেও রফতানি করে কুষ্ঠ রোগীর প্রতি তাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। কুষ্ঠ রোগের ওষুধও বাংলাদেশে তৈরি করা যায়। এর মানগত উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কুষ্ঠ রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরী। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং মাঠকর্মীদের বিশেষ দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সেবাদান ও ওষুধ উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

সহৃদয় বিবেচনা, সচেতন দায়বদ্ধতা এবং মানবিক মূল্যবোধে অসহায় কুষ্ঠ রোগীদের প্রতি দৃষ্টি বিবদ্ধ করা প্রত্যেক মানুষের একান্ত কর্তব্য। মানুষ মানুষের জন্য এমন মর্মবাণীকে লালন করে কুষ্ঠ রোগীদের ব্যাপারে সহনশীল আর সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ