২২ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কংগ্রেসের ‘ভারত বাঁচাও’ কর্মসূচী

  • নাগরিকত্ব আইন মানবে না ভারতের ছয় রাজ্য;###;অগ্নিগর্ভ পশ্চিমবঙ্গ;###;সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন শহরে ;###;ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন অসম ও মেঘালয়

বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তাল ভারত। নতুন এই বিলটির প্রতিবাদে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে কয়েক দিন ধরেই চলছে বিক্ষোভ। এবার নতুন করে আরও উত্তাপ ছড়াতে ‘ভারত বাঁচাও’ সমাবেশের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। শনিবার রাজধানী দিল্লীতে অর্থনৈতিক দুরাবস্থা, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, কৃষকদের দুর্দশা ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এই সমাবেশের ডাক দিয়েছে দেশটির বিরোধী দল। এই সমাবেশে অংশ নেবেন সোনিয়া গান্ধী, মনমোহন সিং, রাহুল গান্ধীসহ দলের শীর্ষ নেতারা। কংগ্রেসের বিদেশের শাখাগুলোও বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ প্রদর্শনের মাধ্যমে ‘ভারত বাঁচাও’ সমাবেশে যোগ দেবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল পাস হয়। খবর হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজার ও টেক ক্রাঞ্চ অনলাইনের।

পরে রাষ্ট্রপতি বিলটিতে সই করায় তা আইনে পরিণত হয়ে গেছে। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ভারতে স্থায়ীভাবে হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য এই আইন করেছে বলে সমালোচনা চলছে দেশজুড়ে। তাছাড়া এই আইনের ফলে সংখ্যালঘু মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সবচেয়ে বেশি। দেশটির কয়েকটি রাজ্য এরই মধ্যে জানিয়েছে, তারা এ আইন মানবে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজ্যই কেন্দ্রের আইন মানতে বাধ্য।

এদিকে, ভারতে হিন্দুত্ববাদী সরকার বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন বিল বা ক্যাব পাসের পর বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার রাজধানী দিল্লী ও পশ্চিমবঙ্গে কলকতাসহ অন্যান্য জেলায় সহিংস বিক্ষোভ হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ও রাজ্যপাল জগদ্বীপ ধনকর সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও কাজ হয়নি। সকাল থেকেই ক্যাবের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু হয়। উলুবেড়িয়া, মুর্শিদাবাদ ও বেলডাঙ্গাসহ রাজ্যের কিছু অঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অসমে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। মেঘালয়ের জনগণও এ বিলের প্রতিবাদে সরব হয়। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কেন্দ্রীয় সরকারের এই আইন না মানার ঘোষণা দিয়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। দিল্লী, পাঞ্জাব, ছত্তিশগড়, কেরল ও মধ্যপ্রদেশ ক্যাব না মানার ঘোষণা দিয়েছে। অসম ও মেঘালয়ের শান্তি ফেরানোর অজুহাতে কেন্দ্রীয় সরকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে দুইদিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে রাজ্য দুটির ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ ভারতের মোদি সরকারের এই নাগরিকত্ব সংশোধন বিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশ। দেশটিতে সাড়ে ছয় কোটি সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীররাতে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বিলে স্বাক্ষর দেয়ার পর এটি আইনে পরিণত হয়। এর আগে ভারতীয় পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে ক্ষমতাসীনরা ক্যাব পাস করিয়ে নেয়। কিছু বিরোধীদল ক্যাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও কাজ হয়নি। বিলে ভারতের তিন নিকট প্রতিবেশী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে যাওয়া অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

ক্যাব পাসের অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অসম ও মেঘালয়ের হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। রাজ্য দুটির মানুষের মোবাইলে বার্তা আদান-প্রদান সেবাও বন্ধ করে দেয়া হয়। রাজ্য দুটিতে চলমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সৈন্য প্রেরণ করে ভারত সরকার। কাশ্মীরসহ অন্যান্য রাজ্য থেকে অসম ও মেঘালয়ে সৈন্য আনা হয়েছে। এসবের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমতুল্য। অসমের সরকারী কর্মকর্তারা জানায়, ফেসবুক, হোয়াটসএ্যাপ, টুইটার ও ইউটিউবের মতো সামাজিম প্লাটফর্মসমূহ ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হতে পারে। এছাড়া এসব ব্যবহার করে উস্কানিমূলক ছবি, ভিডিও এবং বার্তা আদান-প্রদান করা হতে পারে যাতে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। তবে রাজ্য দুটিতে ঠিক কবে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে- তা জানা যায়নি। ভারত সরকার মনে করছে, ইন্টারনেট বন্ধ রাখার মাধ্যমে লোকজনকে সংবাদ ও অন্যান্য বার্তা আদান-প্রদান থেকে বিরত রাখা যাবে। ভারতসহ অন্যান্য দেশের একই পদক্ষেপ গ্রহণের প্রমাণ রয়েছে। ডিজিটাল অধিকার গ্রুপ এ্যাক্সেস নাও চলতি বছর তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৮ সালে শুধু ভারতে ১৩৪ দফা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছর ভারতে ৯১ বার ইন্টারনেট বন্ধ রাখার প্রমাণ পেয়েছে দিল্লীভিত্তিক ডিজিটাল এডভোকেসি গ্রুপ সফটওয়্যার ল এ্যান্ড ফ্রিডম সেন্টার।

ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার পর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যটিতে টানা ১৩৩ দিন ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখে। এরপর আংশিক ওই রাজ্যে আংশিক ইন্টারনেট চালু করেছে ভারত সরকার। এই ক্যাব আইন মুসলমানদের জন্য ‘বৈষম্যমূলক’ বর্ণনা করে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর। আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয় মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ভারতের নতুন নাগরিকত্ব আইনটি মৌলিক চরিত্রের দিক দিয়েই বৈষম্যমূলক এবং এ বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, আমরা জানি যে এই আইনের বৈধতা ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং আমাদের আশা মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনে ভারতের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে আদালত তা বিবেচনায় নিয়ে নাগরিকত্ব আইনটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।