২৪ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কন্যা সন্তানের মা হলো ১২ বছরের ধর্ষিতা শিশু

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভোজমহল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা চতুর্থ শ্রেণীর ১২ বছরের সেই ধর্ষিতা শিক্ষার্থীর কোলজুড়ে জন্ম নিয়েছে আরেকটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে সিজারিয়ানের মাধ্যমে ওই কন্যা সন্তানটি প্রসব করে। শনিবার রাতে শেবাচিমের চিকিৎসকরা জানান, নির্যাতিতা শিশু এবং তার সদ্য ভূমিষ্ট কন্যা দুইজনেই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শনিবার দুপুরে সদ্য ভূমিষ্ট শিশুটিকে নবজাতক ওয়ার্ডে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়া শিশুর (নির্যাতিতা) মাকে পোস্ট অপারেটিভ বিভাগে রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসা এবং যত্নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর আগে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান শেবাচিম হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি তার চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছেন। পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনায় আইনগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। তাছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ শিশুটির চিকিৎসা সহায়তার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভোজমহল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার সহায়তায় চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে (১২) স্কুলের কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রধানশিক্ষক। দীর্ঘদিন ওই শিক্ষিকার সহায়তায় প্রধানশিক্ষক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই প্রতিবেশী শিশুটিকে পরবর্তীতে ধর্ষণ করে। এতে ওই শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীর অব্যাহত হুমকির মুখে প্রধানশিক্ষক, সহায়তাকারী শিক্ষিকাসহ অন্য এক ধর্ষককে আসামি করা হয়নি। বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ জুয়েল হাওলাদার নামের এক ধর্ষককে অভিযুক্ত করে আদালতে দায়সারাভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর শিশুটির প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর শনিবার সিজারিয়ানের মাধ্যমে কন্যা শিশু জন্ম দেয় ধর্ষিতা ওই শিশু।

নির্বাচিত সংবাদ