১৯ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

থাইল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে

থাইল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ থাইল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ চাওয়া হবে। অন্যদিকে থাইল্যান্ড এদেশে রফতানি বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বরাবরই রফতানি বাণিজ্য থাই্যল্যান্ডের অনুকূলে। বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড জয়েন্ট ট্রেড কমিটির জেটিসি) ৫ম সভায় যোগ দিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মঙ্গলবার ঢাকা ত্যাগ করেছেন। তিনি ১২ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। থাইল্যান্ড সরকারের আমন্ত্রণে তিনি এ সভায় যোগদান করছেন।

এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে-গত ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে ৪৪ দশমিক ০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ৯৫২ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, সামদ্রিক মৎস্য ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য, কাগজ ও কাগজের পাল্প, সাবান, প্লাষ্টিক পণ্য এবং রাবারজাত পণ্য রফতানি করা হয়। অন্যদিকে থাইল্যান্ড থেকে বৈদ্যুতিক সমরঞ্জাম, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী, আয়রণ ও স্টিল, জৈব রাসায়নিক পণ্য, কৃত্রিম ফাইবার ও তুলা আমদানি করা হয়। বাংলাদেশের পণ্যগুলো থাইল্যান্ডে রফতানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। সভায় আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের এ সকল পণ্য রফতানি বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হলে রফতানি বাড়াতে হবে। প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের কাঁচামালের সিংহভাগ আমদানি হচ্ছে থাইল্যান্ড থেকে। দেশে এসব কাঁচামাল উৎপাদন করতে হলে পেট্রোকেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি করা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ। এছাড়া স্বাস্থ্য পর্যটনে থাইল্যান্ড অনেক এগিয়ে গেছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত এবং ওষুধ রফতানির মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব।

জানা গেছে, বাংলাদেশের পাট ও পাটজাতীয় পণ্য এবং অন্যান্য কৃষিপণ্যেরও চাহিদা রয়েছে দেশটিতে। থাইল্যান্ডে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার বাড়ানো গেলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রস্তাব বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে থাইল্যান্ডের রামোং বন্দরের সংযোগ স্থাপনের কাজ বাস্তবায়নেও এবার জোর দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া এবারের বৈঠকে থাইল্যান্ডের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এছাড়া রফতানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির বিনিয়োগও চাওয়া হবে। প্রতিবছর দেশটিতে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশী চিকিৎসা ও বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে গমন করছেন। থাইল্যান্ডের পর্যটন শিল্প বিকাশে বাংলাদেশীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় এদেশে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ আসেনি। শুধু তাই নয়, ভিসা পেতেও এখন নতুন বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের অনুকূলে নয়, প্রতিবছর বাণিজ্য বৈষম্য বাড়ছে। বাণিজ্য বৈষম্য কমিয়ে আনতে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এলক্ষ্যে থাইল্যান্ডের জন্য বিশেষ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করার জন্য জমি বরাদ্দ দেয়ার কথা ভাবছে বর্তমান সরকার।

জানা গেছে, থাইল্যান্ডের কাছে যেসব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা চাওয়া হবে, তার মধ্যে ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত টেক্সটাইল ফেব্রিকস, পাটের সুতা দিয়ে তৈরি টেক্সটাইল, নিট ও ওভেন মিশ্রিত শার্ট, টি-শার্ট, বুনানো জামা, মহিলাদের টাওয়েল, শতভাগ সুতির শার্ট, ছালার বস্তা উল্লেখযোগ্য। দেশটিতে প্রতিবছর মাত্র ৬০ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক (ওভেন) রফতানি হয়। যদিও দেশটির প্রতিবছর প্রায় ৪০-৪২ কোটি ডলারের পোশাকের চাহিদা রয়েছে। চীন, ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে প্রতিবছর দেশটিতে বিপুল পরিমাণ পোশাক রফতানি করে। বাংলাদেশ রফতানিতে এই সুবিধা পায় না।

যদিও থাইল্যান্ড সরকার ইতোপূর্বে বাংলাদেশের ২২৯টি পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছিল। তবে বঙ্গোপসাগর এলাকার দেশগুলোর সংগঠন বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল এ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের (এফটিএ) আওতায় এ শুল্কছাড় কার্যকর করার কথা জানিয়ে ২০০৭ সাল থেকে এ সুবিধা বন্ধ করে দেয় থাই সরকার। ২০০৬ সাল থেকে এ মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। তবে একই সময়ে দি এ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ-ইস্ট ন্যাশনসের (আসিয়ান) এফটিএ কার্যকর হওয়ায় চীন ও ভারত থাইল্যান্ডে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে।