২৬ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই ঘন্টায়    
ADS

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড

সামনেই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। ভোটের লড়াই শুরু হয়ে গেছে প্রার্থীদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাওয়া, ভোটারদের চায়ের কাপে ঝড় তোলা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কথার ফুলঝুরি ছোটানোর মধ্য দিয়ে। সংবিধান অনুযায়ী, যে কোন নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনকে বেশ কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়। সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ওপর প্রভাব বিস্তারের কোন সুযোগ সরকার বা অন্য কারও নেই। তবে এরই মধ্যে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। উঠছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও। সব মিলিয়ে যে পৌষ-মাঘের দারুণ শীতের সন্ধিক্ষণে এক ভিন্নতর উত্তাপ চলে এসেছে কুয়াশাচ্ছন্ন রাজধানীতেÑ এতে কোন সন্দেহ নেই।

প্রতিটি নির্বাচনের আগেই সৃষ্টি হয় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিতর্ক। কখনও আওয়ামী লীগ, কখনও বিএনপি এই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দাবি করে এসেছে। মজার বিষয় হলো, কখনোই সরকারে থাকা বা সরকার থেকে সদ্যবিদায়ী রাজনৈতিক দল লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দাবি করেনি। তাদের সব সময়েরই দাবি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে ক্ষমতার বলয়ে না থাকা রাজনৈতিক দলগুলো সব সময়ই ‘সমান সুযোগের অভাবের’ কথা বলে এসেছে। লক্ষণীয় হলো সাধারণ নির্বাচন না হলেও সিটি করপোরেশনের এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের খোদ সাধারণ সম্পাদক লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলছেন, ‘ত্রিপুরা ও কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীও প্রচারে অংশ নেন। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেয়ার সুযোগ পান। সেখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কোন প্রশ্ন উঠছে না। আইন লঙ্ঘন হয় না। বাংলাদেশে কেন লঙ্ঘন হবে? সে প্রশ্নের জবাব আমরা আজও খুঁজে পাইনি।’ তার প্রশ্নের উত্তর দেবার দায়িত্ব যেন বর্তেছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ওপর। তিনি প্রতিপক্ষের সাধারণ সম্পাদককে পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্যের পদ ত্যাগ করে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে। সব মিলিয়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তি-পাল্টা যুক্তির এক দারুণ পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচন শন্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে হলেই সবার জন্য মঙ্গলজনক। অতঃপর নির্বাচনে সব দলের সমান সুযোগ থাকাটা প্রত্যাশিত। সেটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। ঢাকাবাসীর প্রত্যাশা, লড়াই জমুক, তারাও নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেয়র বেছে নিক। কথামালাও চলুক পারস্পরিক সৌজন্যবোধ ও ভদ্রতা বজায় রেখে। মানুষ নেতাদের বিচক্ষণতা দেখতে আগ্রহী, নির্বুদ্ধিতা নয়।

নির্বাচিত সংবাদ