১৯ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উনিশে টেলিকম ॥ সুদিনের ভিত্তি

  • মোস্তাফা জব্বার

উনিশ সাল পার হয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই পেছনে ফিরে তাকানোটা আমার স্বভাবজাত কাজের একটি। আমার কাছে সালটিকে অসাধারণ সম্ভাবনার মাইলফলক বলেই মনে হয়। একটি গতিশীল টেলিকম খাত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটি কাউকে বোঝানোর দরকার নেই। একদিকে সরকারী প্রতিষ্ঠানের আমলাতান্ত্রিকতা ও স্থবিরতাকে সচল সজীব ও বর্ণাঢ্য করে গড়ে তোলা, অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার ডিজিটাল মহাসড়কটি নির্মাণ করার বিদায়ী বছরটি ছিল অনন্য নিয়ামক। একটি মাহেন্দ্রক্ষণ কেটেছে এই সময়টিতে। যদিও কেউ কেউ বছরটিকে ‘অস্থিরতায় টেলিকম খাত’ বলেছেন, তথাপি তারা যে বছরটির অনালোকিত অংশটির একতরফা ব্যাখ্যা করেছেন সেটি এই নিবন্ধটি পাঠ করলে বোঝা যাবে। একতরফা সমালোচকরা প্রধানত টেলিকম খাতের তিনটি বিষয়ের ওপর দৃষ্টিপাত করেছেন। প্রথমটি জিপি-রবির কাছ থেকে সরকারের পাওনা আদায়ের বিষয়টি বহু আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত মোবাইলের সেবার মান আগের চাইতেও খারাপ হয়েছে- এটিও ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছে। অন্যদিকে মোবাইলের কলরেট এক করায় গ্রাহকের ব্যয় বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনটি বিষয়েই প্রকৃত তথ্য সকলের জেনে রাখা উচিত। নিবন্ধের শেষভাগে আমরা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। শুরুতে কেবল একটি বাক্যই উচ্চারণ করতে পারি যে, এই তিনটি বিষয়েই সরকারের কোন দায় ছিল না এবং সরকার সর্বশক্তি দিয়ে সমস্যাগুলোর সমাধান করার জন্য ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু অপারেটর পুরো বিষয়গুলোকে জটিল করে জনগণের দুর্ভোগও তৈরি করেছে। আশা করি তাদের জটিল অবস্থা তৈরি করার সময় উত্তীর্ণ হয়েছে, এই খাতে তাদের কাছে জিম্মি থাকার অবস্থাটিও পাল্টে যেতে শুরু করেছে। ২০ সালের শেষে দেশবাসী তার প্রতিফলন দেখতে পাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

কোন সন্দেহ নেই যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচী বাস্তবায়নের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ভাবন, উৎপাদন ও রফতানি এবং ডিজিটাল ডিভাইসের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ডিজিটাল সংযুক্তি অপরিহার্য। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিকনির্দেশনায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ডিজিটাল প্রযুক্তির মহাসড়ক নির্মাণসহ ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে গত এক বছরে যুগান্তকারী বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। এই খাতে ১৯ সালে যেসব কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে, বাস্তবায়ন হয়েছে বা বাস্তবায়নাধীন আছে, তার একটি বিবরণ তুলে ধরা যায়।

নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়াদি চিহ্নিত করে স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ এবং সেই আলোকে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

১. ২০১৯ সালে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎক্ষেপণ, পরবর্তীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের-১Ñএর কার্যক্রম চালু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের ৩৪টিরও বেশি টিভি চ্যানেল অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। বাংলাদেশের বাইরেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ প্রস্তুত, উৎক্ষেপণ ও ব্যবহারের পথনকশা তৈরি করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে ২০২৩ সালের মাঝেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ করা যাবে।

২. চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা ডিজিটাল শিল্প বিপ্লব বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলিউশন ফর পয়েন্ট জিরোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তির অভাবনীয় সংস্করণ ফাইভজি চালু করার লক্ষ্যে পথনকশা প্রণয়ন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ফাইভজি চালু করার বিষয়ে অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতি চলছে।

৩. এমএনপি সেবা চালু করা হয়েছে। এর ফলে মোবাইল গ্রাহকগণ নাম্বার ঠিক রেখে পছন্দমতো যে কোন অপারেটর পরিবর্তন করতে পারছেন। যদিও শীর্ষ অপারেটরের সঙ্গে অন্য অপারেটরদের শক্তিমত্তা দুর্বল থাকায় এর সর্বোচ্চ ব্যবহার এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে মোবাইলের আইএমইআই ডাটা ব্যাংক চালু করার ফলে অবৈধভাবে মোবাইল আমদানির পথ বন্ধ হচ্ছে এবং মোবাইলে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। এছাড়াও টেলিকম সেবা নিশ্চিতকল্পে সময়োপযোগী বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বস্তুত বর্তমানে নীতিমালার ঘাটতি এখন প্রায় নে-ই বলা যেতে পারে।

৪. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে বিনা মাশুলে বিটিসিএল ল্যান্ডফোন সংযোগ ও পুনঃসংযোগ প্রদান কার্যক্রম চালু হয়েছে। বিটিসিএলের স্থির ফোন লাইনে মাসে ১৫০ টাকায় যত খুশি তত কথা বলা যাচ্ছে। মাসিক লাইনরেন্ট উঠিয়ে নেয়া হয়েছে এবং ৫২ পয়সা মিনিটে যে কোন মোবাইল অপারেটরে কথা বলা যাচ্ছে। বিটিসিএলের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের সর্বনিম্ন হার প্রতি এমবিপিএস ৩৬০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্মরণ করা দরকার ২০০৮ সালে এই মূল্য ২৭ হাজার টাকা ছিল। বিটিসিএল ৫৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই ফাই জোন চালু করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রেখেছে। এর মাঝে ১০০টি সংযোগ প্রদানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিটিসিএলের টেলিকম সেবা আধুনিকায়নে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এমওটিএন প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর ফলে বিদ্যমান প্রযুক্তিকে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্যন্ত বিটিসিএল তাদের প্রযুক্তিকে ডিজিটাল করতে সক্ষম হচ্ছে।

৫. ২৬ মার্চ ১৯ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধন করার পর ডাক বিভাগ মোবাইল আর্থিক সেবা সার্ভিস ‘নগদ’ চালু করেছে। এরই মাঝে ‘নগদ’-এর দৈনিক লেনদের প্রায় শত কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ডিজিটাল ডাক টাকা চালু করার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। যে কোনদিন এই সেবা চালু হবে। ডাক সেবাকে ডিজিটাল ডাক সেবায় রূপান্তরের মাধ্যমে ডাক বিভাগের অবকাঠামোকে কার্যকর ডিজিটাল কমার্সের উপযোগী করে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সারাদেশে ডিজিটাল ডাক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে ১৯ হাজারের বেশি উদ্যোক্তাকে এসব কেন্দ্রের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা সরকারের সেবা জনগণের কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি জনগণকে অন্যান্য ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে। আগারগাঁওয়ে আধুনিক ডাক ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনা এখন একটি আইকন ভবনে পরিণত হয়েছে। দেশব্যাপী নতুন ডাকঘর নির্মাণ ও পুরনো ডাকঘর সংস্কারের পাশাপাশি ১৪টি ডাক বাছাই কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

৬. দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের বর্ধিত চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ২০২৩ সালের মার্চে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সি-মি-উই ৬-এ যুক্ত হবার জন্য এরই মাঝে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল থেকে ব্যান্ডউইথের মূল্য সর্বনিম্ন ২৮৫ টাকায় নামানো হয়েছে।

৭. টেলিটক দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে তার নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজ করছে। এসওএফ তহবিলের আওতায় ১৮৪.৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অধীন হাওড়সমূহে এবং মাতারবাড়ি, হাতিয়া, ভাসানটেক প্রভৃতি দ্বীপ অঞ্চলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিটিআরসির সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল বা এসওএফ তহবিলের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ও অনুমোদন হয়েছে। যার ফলে দেশের সকল দুর্গম এলাকায় সর্বশেষ মোবাইল প্রযুক্তি সম্প্রসারণ হচ্ছে। এছাড়াও সারাদেশে টেলিটক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেও বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

৮. টেলিফোন শিল্প সংস্থা ডিজিটাল ডিভাইস নির্মাণের উপযোগী করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন বাজারে এসেছে। এই সংস্থার প্রচলিত পণ্য ফোন সেট, মিটার ইত্যাদির উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত তথ্যপ্রযুক্তিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানিবান্ধব প্রদত্ত সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে নেপাল ও নাইজেরিয়ায় কম্পিউটার/ল্যাপটপের বড় অঙ্কের চালান রফতানি হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে রফতানির বিষয়টি পাইপলাইনে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ডলারের মোবাইল সেট রফতানির আদেশ পাওয়া গেছে। নতুন বছরে এই রফতানির কাজটি সম্পন্ন হবে।

৯. গুণগতমানের অপটিক্যাল ফাইভারের বর্ধিত চাহিদা পূরণের জন্য খুলনা বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড, খুলনাকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালে ৪,৪২০.১৪৫ কি.মি. অপটিক্যাল ফাইবার, ৪১,৫২৭.৮০৮ কি.মি. টেলিযোগাযোগ কপার ক্যাবল এবং ২,০৪৬.৫৫৭ কি.মি. এইচডিপি সিলিকন ডাক্ট উৎপাদন করা হয়েছে। আইসিটি ডিভিশনের ‘কানেক্টেড বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ৮,১০০ কি.মি. অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল সরবরাহের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। উৎপাদন বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে প্রায় ২৪.১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বৈদ্যুতিক ওভারহেড কন্ডাক্টর, সার্ভিস ড্রপ ক্যাবল ও ইনস্যুলেটেড ওয়্যার তৈরির প্লান্ট স্থাপন কার্যক্রম চলছে।

১০. এসওএফ তহবিলের অর্থায়নে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কানেক্টেড বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় ৭৩৬টি ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক্স কানেকশন দেবার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। একইভাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শিশু কানন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

১১. টেলিকম অধিদফতরের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সাইবার থ্রেড ডিটেকসন ও রেসপন্স প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায় বিবেচনাধীন রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১৫২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল শিক্ষা প্রবর্তন করছে।

মোবাইল অপারেটরদ্বয়ের পাওনা আদায়, সেবা ও কলরেট : নিবন্ধের শুরুতেই বলেছি যে, এই প্রসঙ্গগুলো ১৯ সালের বহুল আলোচিত বিষয় ছিল। জিপি, রবির পাওনার ইতিহাস ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। সরকারের পক্ষ থেকে হিসাব নিরীক্ষা করে এই পাওনা নির্ধারণ করা হয়। বস্তুত এর মাঝে একবার বিষয়টি আদালতে যায় এবং আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয়বার নিরীক্ষা করে সরকারের পক্ষ থেকে দাবিনামা পেশ করা হয়। এই দাবিনামা পেশ করার প্রেক্ষিতে উভয় অপারেটর আলোচনার প্রস্তাব দিলে টেলিকম বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা আলোচনায় যুক্ত হয়ে দুই অপারেটরকেই একটি সহজ সমাধান প্রদান করেন। কিন্তু অপারেটরদ্বয় সেই সহজ সমাধান গ্রহণ না করে আদালতের শরণাপন্ন হয়। সঙ্গত কারণেই এখনও বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারে রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। এরই মাঝে জিপি আন্তর্জাতিক আদালতে যাবার হুমকি দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে উকিল নোটিস দিয়েছে, যা এই দেশের কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপারেটরদের এই আচরণের ফলে মোবাইলের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ বন্ধ রয়েছে। সেবার মানও কমেছে। এরই মাঝে আদালত জিপিকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মাঝে দুইশত কোটি টাকা ও ৫ কিস্তিতে রবিকে ১৩৮ কোটি টাকা দেবার নির্দেশ দিয়েছে। অপারেটরদ্বয় আদালতের নির্দেশনা মানলে বিষয়টির একটি সম্মানজনক সমাধান হতে পারে।

মোবাইলের সেবার মান যে নেমেছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সেটি যে অসহনীয় সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। বিষয়টি বিগত সংসদে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, দুটি বড় অপারেটর যারা সরকারের পাওনা পরিশোধ করেনি এবং সেটিকে কেন্দ্র করে নানা জটিলতা সৃষ্টি করেছে তারা স্পেকট্রাম বা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে কোন উদ্যোগই গ্রহণ করেনি। তারা তাদের মুনাফা বাড়াচ্ছে অথচ তাদের যে পরিমাণ স্পেকট্রাম ও বিটিএস দরকার তা মোটেই নেই। যেহেতু অন্য দুটি অপারেটর বাজার দখল, নেটওয়ার্ক বা সেবার মানে বড় দুটির চাইতে শক্তিশালী নয়, সেহেতু আমরা যে কারণে এমএনপি নীতি করেছিলাম এবং মোবাইলের একটি একক মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম, তা তেমনভাবে কাজে লাগেনি। বরং সেটি বড় দুই অপারেটরের পক্ষেই গেছে। এসবের অন্যতম সমাধান হচ্ছে টেলিটকসহ দুর্বল অপারেটরদের সক্ষমতা বাড়ানো। আমরা টেলিটককে শক্তিশালী করার জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছি। আশা করি টেলিটক শক্তিশালী হলে মোবাইল বাজারের একচেটিয়া দাপট থাকবে না। আমার বিশ্বাস মোবাইল অপারেটর বিষয়ক এসব জটিলতা ২০২০ সালে সমাপ্তির শেষ রেখায় পৌঁছবে।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

ঢাকা, ১০ জানুয়ারি ২০২০

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার, বিজয় ডিজিটাল শিক্ষার প্রণেতা

[email protected],

www.bijoyekushe.net.bd