২৬ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আতঙ্কে শেয়ারবাজারে বড়দরপতন

আতঙ্কে শেয়ারবাজারে বড়দরপতন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতনে সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস হয়েছে। মূল্য সূচকের বড় পতনে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক প্রায় পাঁচ বছর আগের অবস্থানে চলে গেছে। পতনের ভয়াবহতায় তালিকাভুক্ত ১৩টি কোম্পানির শেয়ারের কোন ক্রেতা ছিল না। ক্রেতাশূণ্য অবস্থায় কোম্পানিগুলোর লেনদেন শেষ হয়েছে। এই দরপতনেও কোন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা মার্কেট মেকারদের বাজারকে সাপোর্ট দিতে দেখা যায়নি।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শেয়ারবাজারে এমন বড় দরপতন গত সপ্তাহজুড়েই ছিল। ফলে গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচকের ২৬১ পয়েন্ট পতন হয়। তবে চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার সূচকের সামান্য উত্থান হয়। কিন্তু পরের কার্যদিবসে সোমবার আবারও বড় পতন হলো।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা পতনের কারণে গ্রামীন ফোন, ব্র্যাক ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপরীতের মাার্জিন ঋণ নেওয়া একাউন্টগুলোতে ফোর্স সেলের আওতায় পড়েছে। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পুঁজি বাচাতে যেকোন দরে শেয়ার বিক্রি করছেন, যার ফলে আতঙ্কে ও গুজবে শেয়ারবাজারে বড়পতন ঘটছে। কিন্তু সেই বিক্রির বিরুদ্ধে ক্রেতা নেই। উল্টো বাজারে আরও পতন হবে এমন আতঙ্কই বেশি ছড়াচ্ছে এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা।

এমন ধারাবাহিক বড় পতনের কবলে ডিএসইর বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচক বেশ আগেই শুরুর অবস্থান থেকেও নিচে নেমে গেছে। সোমবার ইসলামী শরিয়াহ্ভিত্তিক পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচকটিও শুরুর অবস্থানের নিচে চলে গেছে। প্রধান মূল্য সূচক এমন জায়গায় অবস্থান করছে এটিও যেকোনো সময় শুরুর অবস্থানের নিচে চলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ারবাজারের এমন ভয়াবহ পতনের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। দিন যত যাচ্ছে তাদের বোবা কান্না ততই বেড়ে চলছে। পুঁজি হারা এসব বিনিয়োগকারী কোনো দিশা খুঁজে পাচ্ছেন না। অনেকে শেয়ারবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আবার যারা এখনো শেয়ারবাজারে আছেন তাদের অনেকেই বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছেন।

শাকিল আহমেদ নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে এসে অনেকটাই নিঃস্ব হয়ে গেছি। বাজার থেকে বেরিয়ে যাব তারও কোনো পথ পাচ্ছি না। সবাই ২০১০ সালের ধসের কথা বলেন। কিন্তু এখন শেয়ারবাজারের যে অবস্থা তা ২০১০ সালের থেকেও খারাপ। এ বাজারে যত অপেক্ষা করা হচ্ছে লোকসান ততই বাড়ছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এ দিন ডিএসইতে মাত্র ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১৩টির। আর দুটি প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮৮ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ১২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এ সূচকটি ১৫ পয়েন্ট বাড়ে। অবশ্য তার আগের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক কমে ২৬১ পয়েন্ট হয়। এতে শেষ সাত কার্যদিবসে সূচকটি কমল ৩৩৪ পয়েন্ট।

এমন পতনের কবলে পড়ে ডিএসইএক্স ২০১৫ সালের ৭ মে’র পর সর্বনিম্ন অবস্থা নেমে গেছে। সেই সঙ্গে সূচকটি প্রায় শুরুর কাছাকাছি চলে এসেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক হিসেবে ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি। এ হিসাবে শুরুর অবস্থান থেকে সূচকটি এখন মাত্র ৬৮ পয়েন্ট বেশি আছে।

প্রধান মূল্য সূচকের থেকেও করুন দশা বিরাজ করছে ডিএসইর অপর সূচকগুলোর। বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচক ডিএসই-৩০ ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি চালু হয়। সে সময় এ সূচকটি ছিল ১ হাজার ৪৬০ পয়েন্টে। ধারাবাহিক দরপতনের কারণে এ সূচকটি এখন ১ হাজার ৩৮৭ পয়েন্টে নেমে গেছে।

ডিএসইর আর একটি সূচক ‘ডিএসই শরিয়াহ্’। ইসলামী শরিয়াহ্ ভিত্তিক পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি এ সূচকটি যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এ সূচকটি ছিল ৯৪১ পয়েন্টে। বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে সূচকটি ২০ পয়েন্ট কমে ৯২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বৃহৎ বা বড় মূলধনের কোম্পানির জন্য চলতি বছরে ‘সিএনআই-ডিএসই সিলেক্ট ইনডেক্স (সিডিএসইটি)’ নামে নতুন সূচক চালু করেছে ডিএসই। বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে অফিসিয়ালি ডিএসইর ওয়েবসাইটে সূচকটি চালু করা হয়। ৪০টি কোম্পানি নিয়ে শুরু হওয়া সূচকটির ভিত্তি ভ্যালু ধরা হয় ১০০০ পয়েন্ট। তবে এখন সূচকটি ৮৩৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

সূচকের করুন দশার মধ্যে দেখা দিয়েছে তারল্য সংকটও। গত বছরের ৫ ডিসেম্বরের পর ডিএসইর লেনদেন আর লেনদেন ৪শ’ কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করতে পারেনি। বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ ২শ’ থেকে ৩শ’ কোটি টাকার ঘরে আটকে আছে। সোমবার লেনদেন হয়েছে ২৮৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৬০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এই মাত্রা পাওয়া