২৬ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধর্ষণ ও দুর্ঘটনা

ইদানীং পত্রপত্রিকার পাতা খুললেই যে দুটো বিষয় সর্বাগ্রে চোখে পড়ে তা হলো, ধর্ষণ ও সড়ক দুর্ঘটনা। আরও যা দুঃখজনক ও রীতিমতো উদ্বেগের তা হলো, এ দুটোই ক্রমবর্ধমান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং আদালতের নজরদারি সত্ত্বেও কাক্সিক্ষত প্রতিকার ও প্রতিবিধান মিলছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ধর্ষণের ঘটনা এবং ধর্ষককে গ্রেফতার করতে না করতেই চলন্ত বাসে আবারও নারী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ধামরাইয়ে শুক্রবার ভোরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ধর্ষিত হন এক নারী শ্রমিক। পড়ে তাকে হত্যা করে ফেলে দেয়া হয় রাস্তার পাশে। চালককে অবশ্য গ্রেফতারের খবর আছে। অন্যদিকে রাজধানীর রামপুরায় এক মেসে বাবুর্চি কর্তৃক ধর্ষিত হন দুই নারী। একই দিনে নারায়ণগঞ্জে এক কিশোরীকে দু’দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগও স্থান পেয়েছে গণমাধ্যমে। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালে দেশে ১৭ হাজার ৯০০টি নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে পাঁচ হাজার ৪০০ জন। আর ৮১৫ শিশু শিকার হয় ধর্ষণের। এর মধ্যে ধর্ষণের পর ২৬ নারী এবং ১২ শিশু নিহত হয়। দুঃখজনক ও পরিতাপের বিষয় হলো, দু-একটি বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে হত্যা-ধর্ষণের সত্যতা ও আলামত হারিয়ে যায় পুলিশ প্রদত্ত ফাইনাল রিপোর্টে। ফলে অধিকাংশ মামলা থেকে যায় অমীমাংসিত এবং সে জন্য প্রতিকারও মেলে না ভুক্তভোগী ও স্বজনদের। নিঃসন্দেহে এটি রীতিমতো উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের।

অনুরূপ বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি বিরাজ করছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের বিচার এবং ক্ষতিপূরণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও। যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ৫ হাজার ৫১৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হন সাত হাজার ৮৮৫ জন। আহত ১৩ হাজার ৩৩০ জন। প্রাণহানির সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে আটগুণ বেশি হলেও আদৌ কোন মামলা হয় না ৮০ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে। ক্ষতিপূরণ পাওয়াও নিতান্তই দুর্লভ বলা চলে।

কেন বাড়ছে ধর্ষণ। কেনইবা মানুষ হারাচ্ছে নিজের নৈতিক মূল্যবোধ? জঘন্যতম এ অপরাধের প্রবণতা কমছে না। পরিবার-সমাজ এবং রাষ্ট্রে কোথাও ধর্ষক ও নারী নির্যাতনকারীর প্রশ্রয় থাকা উচিত নয়। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্বে প্রতিবছর ১৩ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে সড়ক দুর্ঘটনায়। পঙ্গু ও আহত ততোধিক। এর এক-তৃতীয়াংশ ঘটে দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষ করে বাংলাদেশে। গত দুই দশকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেড়েছে তিনগুণ, যা বাংলাদেশের জন্য খুবই উদ্বেগের বিষয়। সর্বোপরি সড়ক দুর্ঘটনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে। সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারগুলোতে একদিকে যেমন নেমে আসে মানবিক বিপর্যয়। অন্যদিকে হতে হয় সমূহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। দুর্ঘটনার অনেক কারণের মধ্যে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো একটি। সড়ক-মহাসড়কে ইজিবাইক, হোন্ডা, ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান, নসিমন, করিমন, লেগুনা চলছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না। এসব ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে বিশ্বব্যাংক-জাতিসংঘ। এর পাশাপাশি ২০১৮-এর ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইনটি যত দ্রুত সম্ভব কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরী।

এই মাত্রা পাওয়া