১৮ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অপপ্রচারে এ্যামনেস্টি

এবারই প্রথম নয়। এর আগেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গর্হিত কাজ করেছে। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হয়, সংস্থাটি বাংলাদেশের বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল, যে দলটি আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার জন্য কুখ্যাতি অর্জন করেছে, সেই দলের পক্ষে কাজ করছে। এজেন্ডা গ্রহণ করেছে দলটির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের, তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে অপপ্রচারে শামিল হওয়ার। সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ এর আগেও এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, তারা মানবাধিকার সংস্থা নামের কলঙ্ক।

এরা মানবাধিকারের নামে জামায়াত-বিএনপির দালালি করে, বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করে। বাংলাদেশে এদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া উচিত।

সম্প্রতি তারা অভিনব এক কা- করে বসেছে। সিরিয়ার যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞের ছবি দিয়ে বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর এক ফেসবুক পোস্ট করেছে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ফেসবুকে পোস্টটি প্রোমোশন করার পর বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় নিজেদের অফিসিয়াল পেজ থেকে হাইড করে রাখলেও এখনও তা শেয়ার হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। তবে এমন পোস্ট যাওয়া উচিত হয়নি বলে দায়সারা বক্তব্য দিয়ে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা। বিভ্রান্তিকর এই ছবি ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণেœ যে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে এতে কোন সংশয় নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও।

স্মরণযোগ্য, এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময়েও বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মনগড়া তথ্য ছড়িয়েছে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বন্ধের জন্য নানাভাবে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে। চাপ দিয়েছে। আর এখন তারা সিরিয়ার একটি ছবি দিয়ে বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করে যে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সংস্থাটির এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সক্রিয় ছিল এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ সময় বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে আরও বেশ কিছু ইস্যুতে সোচ্চার ছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটি। ২০১২ সাল থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরব থাকা এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টার অভিযোগ উত্থাপিত হয় ২০১৫ সালে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পরও বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মানবাধিকার বিষয়ের উত্তরণ ও মর্যাদা রক্ষায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত মানব অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে কাজ করে যাওয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাদের ক্রমাগত অপপ্রয়াস দেখে মনে হচ্ছে তারা জ্ঞানপাপী। অথচ সংস্থাটি ১৯৭৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার এবং ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার পুরস্কার পেয়েছে। ইতোপূর্বে নারী নির্যাতন বন্ধ, বিচার ব্যবস্থায় নির্যাতন বন্ধ ও যুদ্ধ ভীতি বন্ধে সহায়তা, দারিদ্র্যের শিকারে পর্যুদস্ত ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদাপ্রাপ্তিতে সহায়তা, মৃত্যুদ-াদেশ রহিতকরণ, অভিবাসী ও শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা ইত্যাদি ইস্যুতে কিছু কিছু প্রশংসনীয় ভূমিকাও রেখেছে। হঠাৎ করে বিগত কয়েক বছর ধরে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একের পর এক যেসব বক্তব্য দিয়ে চলেছে তা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য ও বিদ্বেষমূলক। আমরা আশা করব, শিষ্টাচারবহির্ভূত কর্মতৎপরতা ও বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার থেকে সরে আসবে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

নির্বাচিত সংবাদ