২৬ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়াইফাই

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাক্সিক্ষত জগতকে প্রতিনিয়তই আয়ত্তে আনার জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান ধারায় তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশমান প্রযুক্তি বাংলাদেশ তৈরির অন্যতম অঙ্গীকার। নির্বাচনী ইশতেহারেরও এমন প্রত্যয় উঠে এসেছিল। এমন লক্ষ্যমাত্রায় তথ্যপ্রযুক্তি নতুন প্রজন্মের কাছে সম্প্রসারিত করতে আরও নতুন কিছু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় দেশের ১৪৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াইফাই দেয়ার কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, ২০২১ সালকে লক্ষ্যমাত্রা ধরে এমন অভাবনীয় কর্মপ্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে সারাবিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে জোর কদমে। বাংলাদেশকেও সমান তালে পা ফেলতে হলে প্রযুক্তির সহগামিতা নিশ্চিত করতে হবে। সেখানে সরকারেরও দায়দায়িত্ব থাকতে হবে। সেই লক্ষ্যে গত এক দশকে ১০ কোটি মানুষের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন গতিপ্রবাহে সরকারের পরিকল্পিত কর্মসূচী নজরকাড়া। সেটা আরও বাড়িয়ে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে তেমন প্রযুক্তিগত সেবা দেয়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। ডিজিটাল বাংলাদেশের দাবি পূরণের জন্যই বিনামূল্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়াইফাই সংযোগ দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদীয়মান প্রজন্মকে বিশ্বসভায় নিয়ে যেতে হলে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া বিকল্প নেই। দশ বছর আগেও এমন আধুনিক প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের আয়ত্তে আসা ছিল কল্পনার অতীত। বর্তমানে তা মানুষের হাতের মুঠোয়।

সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তির সেবা প্রদান সরকারের অন্যতম কার্যক্রম। তা এখন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চালু করা হবে, যাতে তারা তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে বিশ্বমানের গুণগত শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। এমন ব্যবস্থা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা নিয়তই গতিশীল থাকবে। সারাদেশে যেভাবে প্রযুক্তিগত বিদ্যাকে সকলের সঙ্গে সরবরাহ করা হচ্ছে, সেভাবে স্কুল ও কলেজে ডিজিটাল শিক্ষার মাধ্যমে দেশের আগামী প্রজন্মকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনায় সমৃদ্ধ করতে সরকার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানো হবে। ওয়াইফাই মানেই উচ্চ গতিসম্পন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়, যা দ্রুততার সঙ্গে সারা বিশ্বকে হাতের কাছে পৌঁছে দেয়।

তবে অপার সম্ভাবনাময় এই দেশটিতে হরেক রকম বাধা বিপত্তিকেও অতিক্রম করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রাইমারী থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষা পাচ্ছে না, শিক্ষক সঙ্কটকেও অতিক্রম করতে পারছে না। তার ওপর কিছু সরকারী স্কুল-কলেজ আছে, যেখানে দুই শিফট চালুর ব্যবস্থা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অবস্থা আরও বিপন্ন। পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় শিক্ষকের ঘাটতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের দৈনন্দিন চিত্র। শিক্ষক অপ্রতুলতার কারণে যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এক শিফটের বদলে দুই পর্বে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সেও এক বিপন্ন পরিবেশ। ফলে গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এসব অব্যবস্থাপনার দিকে লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত জরুরী। যোগ্য শিক্ষক তার মূল্যবান পেশাটিকে যদি সততা আর নিষ্ঠায় চালাতে ব্যর্থ হন তা হলে সে চাপ যেমন তার নিজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরও। শুধু ডিজিটাল বাংলাদেশ নয়, তার চেয়েও বেশি শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা বিবেচনায় তেমন শিক্ষক পাঠদানে আসতে না পারলে পুরো ব্যবস্থাপনাই হুমকির মুখে পড়তে পারে। সে অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক বিষয়কেও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা নৈতিক ও সচেতন দায়বদ্ধতা।

নির্বাচিত সংবাদ