১৯ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পিলখানা হত্যা মামলার রায়ের আংশিক পর্যবেক্ষণ

  • বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী

[ হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতি ২০১৭ সালের ২৬ ও ২৭ নবেম্বর পিলখানা হত্যা মামলার রায় দিয়েছিলেন। রায় ঘোষণার দুই বছর পর ৮ জানুয়ারি ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদন) ও আপীলের ওপর হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। দীর্ঘ ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের মধ্যে ১৬ হাজার ৫৫২ পাতা একাই বাংলায় লেখেন বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী। উক্ত রায় ধারাবাহিকভাবে পত্রস্থ হলো- বি.স.]

হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের মাননীয় বিচারপতিরা পিলখানা হত্যা মামলার ১৩৯ জনকে মৃত্যুদ- অনুমোদন, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-, ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা বহাল ও ৭৯ জনকে খালাস দেয়ার সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করে রায় প্রদান করেছেন। ২৬ নবেম্বর ২০১৭ তারিখে বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতি মোঃ শওকত হোসেন সংক্ষিপ্ত সূচনা বক্তব্যের পর জনাকীর্ণ আদালতে বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী দিনব্যাপী নজিরবিহীন এই মামলায় সুদীর্ঘ পর্যবেক্ষণ দেন। পরদিন অপর বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদারের পর্যবেক্ষণ শেষে তিনজন বিচারপতি পর্যায়ক্রমে সাজা ও খালাসের আাদেশ ঘোষণা করেন। বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকীর মাতৃভাষায় লেখা ১৬ হাজার ৫৫২ পাতার রায়ে ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৮টি শব্দ ব্যবহার হয়েছে। রায়টি পৃথিবীর বিচার বিভাগের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রায় হিসেবে ইতোমধ্যে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। উক্ত গবেষণামূলক রায়ে মামলার প্রেক্ষাপট, ঘটনার নৃশংসতা, পারিপার্শ্বিকতাসহ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণসহ উপমহাদেশের উচ্চ আদালতের নজির, প্রায়োগিক ও ব্যবহারিক আইনের প্রয়োগ এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্য পর্যালোচনাসহ ঔঁফমসবহঃটি ঝঢ়বধশরহম হওয়ায় বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার বিচারপতি সিদ্দিকীর বাংলায় লেখা রায়টি দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও একমত পোষণ করে তাঁর লেখা পর্যবেক্ষণের শুরুতেই বলেছেন,

'I fully concur with the views, observations and opinions expressed in the judgment delivered by Mr. Justice Md. Abu Zafor Siddique for the reasons that his lordship has delivered the judgment considering and scrutinizing the facts and circumstances of the case, the legal evidence and other circumstances giving proper explanations and reasons. Apart from this, his lordship has elaborated his findings and observations in details giving reference to different legal decisions. The judgment delivered by Mr. Justice Md. Abu Zafor Siddique appears to be more speaking, elaborate and well-reasoned. Since the judgment delivered Mr. Justice Md. Abu Zafor Siddique has been prepared perusing the facts and circumstances of the case considering the direct evidence and clinching circumstances.'

বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকীর লেখা যুগান্তকারী এই রায়ের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ রাইফেলসের সুদীর্ঘ ২১৮ বছরের বর্ণাঢ্য ইতিহাস, মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর অবদান, সেনা অফিসারদের নেতৃত্বের প্রতি বাহিনীর অসন্তোষ, বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট, ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, ঘটনার নৃশংসতা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি বিদ্রোহীদের প্রকাশ্য হুমকি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা, বিদ্রোহের লক্ষ্য, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ৪৮ দিনের নবগঠিত সরকারের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ, বিদ্রোহের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র, স্বার্থান্বেষী মহলের উস্কানি, ঘটনার পেছনের ঘটনা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নজিরবিহীন মামলাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তিনি গবেষণামূলক সুদীর্ঘ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন। মামলার বিশালতা, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ বিশেষ করে দ- ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহজে উপলব্ধির বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে তিনি যুগান্তকারী এই রায়টি মাতৃভাষায় লিখেছেন। রায়ের সূচনালগ্নে বিচারপতি সিদ্দিকী বলেন;

This is undoubtedly an unprecedented and historic case. Seldom, if ever, has a criminal case involved such a large number of accused persons, with including all the documents running into huge number of pages.

The Death References relate to the horrific, barbaric and tragic incident that took place on 25 & 26 February, 2009 at Peelkhana, the headquarter of the then Bangladesh Rifles (BDR), located in the heart of the Capital City Dhaka, resulting in the death of 74 persons, including the Director General of Bangladesh Rifles together with 56 other brilliant officers of different ranks of Bangladesh Army.

Although the Special Bench is unanimous with regard to the final verdict in respect of the order of conviction and sentences, yet each of the members of the Bench have decided to express their views and reasons separately. Accordingly, I intend to pronounce the following judgment expressing my own observations and views with reasoning. Being conscious of the magnitude of the case as well as the gravity of the offences committed, I feel constrained to make certain observations at the outset.

The incident in question, the Peelkhana Tragedy, as I may refer to it, is a barbaric, brutal and violent incident. In order to decide the legality and validity of the impugned judgment and order of conviction and sentence dated 05.11.2013, I have adhered to the legal and penal provisions of the laws of Bangladesh, I have also examined and considered various other aspects namely, jurisprudence, criminology, medical jurisprudence, sociology, penology, judicial pronouncements of our Supreme Court and other countries including UK, USA, India & Pakistan. I have also examined various chapters of the New Encyclopedia of Social Science. Last, but not least, I have also considered the religious dictates of Sharia Law along with other religious books like the Holy Quran, Geeta, Bible etc. I have also taken into account the provisions of the Constitution of the People’s Republic of Bangladesh, particularly the preamble of the Constitution as well as Articles 27, 31, 32, 106 & 111 thereof. The result of the extensive research undertaken by me has been reflected in my views expressed in the body of this judgment.

Considering the legal and social implications and to ensure proper understanding with regard to the issues of dispensation of justice, keeping in view the individual identity and the social standings of the victims as well as those of the convict appellants and their respective families, I propose to deliver my judgment together with my observations in our mother-tongue-‘Bangla’.

বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী তার রায়ের পর্যবেক্ষণে নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনায় উদ্ভূত ফৌজদারি অপরাধ জগতের সর্ববৃহৎ এই মামলায় সর্বাধিকসংখ্যক অভিযুক্তের মৃত্যুদ- অনুমোদন, যাবজ্জীবন কারাদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে প্রদত্ত সাজা বহালের যথার্থতা নিরূপণে বিধিবদ্ধ আইনের ব্যবহার এবং তা প্রয়োগের আইনানুগ যৌক্তিকতাসহ এই উপমহাদেশের উচ্চ আদালতের প্রাসঙ্গিক নজির গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছেন। পাশাপাশি মামলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড ও আমেরিকাসহ পৃথিবীর বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে ন্যায়বিচার, অপরাধের সাজা ও আইনের শাসন সম্পর্কে সংবিধানের মূল দর্শন, বিশেষ করে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ ২৭, ৩১, ৩২, ১০৬ ও ১১১ অনুচ্ছেদের নির্দেশনা আলোচনা করেছেন।

পিলখানা হত্যা মামলায় মৃত্যুদ- অনুমোদনের রায়ে বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী পর্যবেক্ষণে প্রখ্যাত দার্শনিক, আইন বিজ্ঞানী, অপরাধ বিজ্ঞানী, দ- বিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণের গবেষণায় অপরাধী, অপরাধের ধরন ও কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে প্রদত্ত মতবাদ বিশ্লেষণ করেছেন। মামলাটির বিশালতা বিবেচনায় অপরাধ ও ফৌজদারি আইনের সৃষ্টিলগ্ন থেকে ন্যায়বিচার সংক্রান্ত খ্যাতিমান মনীষীগণের সুচিন্তিত মতবাদ বিবেচনায় নিয়েছেন। রায়ে সুবিশাল পর্যবেক্ষণে হত্যাসহ অন্যান্য অপরাধের সাজা প্রদান সংক্রান্ত পবিত্র কুরআন, বাইবেল, গীতাসহ বিভিন্ন ধর্মে উল্লিখিত নির্দেশনা আলোচনা করেছেন। তিনি ১২১৫ সালের কিং জনের বিখ্যাত ম্যাগনাকার্টা, ১৬৮৯ সালের পিটিশন অব রাইটস, ১৮৭৯ সালে আমেরিকার সংবিধানে ঐতিহাসিক পঞ্চম সংশোধনীতে সংযোজিত বিল অব রাইটস, ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের জালিয়ানওয়ালাবাগের নির্মম হত্যাকা-, ড. ইয়ংয়ের আইডিয়া অব পানিশমেন্ট, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত নীতি, ফৌজদারি অপরাধ জগতের ইতিহাসে সুবিশাল এই মামলায় সংঘটিত অপরাধ, অপরাধ সংঘটনের স্থান, অপরাধের উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায়, ষড়যন্ত্র, অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, নৃশংস হত্যাকা-সহ নানাবিধ অপরাধকর্ম, অপরাধীর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়, নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান, রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি ঘটনার প্রভাব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নবগঠিত সরকারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় দেশের প্রচলিত আইনী কাঠামোয় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে উল্লিখিত বিষয়ে প্রদত্ত দিকনির্দেশনার আলোকে তর্কিত রায়ে দণ্ড ও সাজাপ্রাপ্তদের খালাস ও শাস্তি বহালের ক্ষেত্রে আইনানুগ যৌক্তিকতা রায়ে বিবেচিত হয়েছে। মাতৃভাষায় লেখা রায়ের পর্যবেক্ষণে দেশের প্রচলিত ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক আইনের পাশাপাশি এই উমহাদেশের উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তিকৃত Landmark judgment হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যা মামলা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী হত্যা মামলা, ভারতের অপর প্রধানমন্ত্রী শ্রীমান রাজীব গান্ধী হত্যা মামলা, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জুলফিকার আলী ভুট্টোর মামলাসহ ঐতিহাসিক মামলার নির্দেশনা এই রায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা ও অনুসরণ করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ রাইফেলসের ঐতিহাসিক ভূমিকা

বিচারপতি মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী বাংলাদেশ রাইফেলসের বর্ণাঢ্য ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধে বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জাতির উদ্দেশে দেয়া স্বাধীনতার দিকনির্দেশনামূলক ঐতিহাসিক ভাষণে এদেশের কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতার সঙ্গে সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর বাঙালী সৈনিকরা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ইতোমধ্যেই জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংগঠন টঘঊঝঈঙ কর্তৃক বিশ্বের ঐতিহাসিক এক অনন্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ৭ মার্চের ভাষণ সমগ্র বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস্ (ইপিআর)-এর মেধাবী বাঙালী সৈনিকরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ওয়্যারলেসযোগে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বার্তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিয়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল, যার ফলে ইয়াহিয়া খানের পাক হানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে এদেশের ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং শুরু হয় বাঙালী জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ওয়্যারলেসে প্রচার করায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে ইপিআরের সুবেদার মেজর শওকত আলীসহ ৪ জন বীর সৈনিক নিহত হয়। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা শোনা মাত্রই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতের অন্ধকারে দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস থেকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাজোয়া যানগুলো বেরিয়ে প্রতিটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তাদের দখলে নিয়ে দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞের নীলনকশা তৈরি করে।

প্রাসঙ্গিকভাবেই উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে কুষ্টিয়া জেলার চুয়াডাঙ্গা সেক্টরের ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের (ইপিআর) কমান্ডিং অফিসার মেজর আবু ওসমান চৌধুরী বাঙালী সৈনিকদের নিয়ে পাকিস্তানী সেনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর ও পোড়াদহসহ চারদিকে অবস্থান গ্রহণ করে। স্থানীয় ছাত্র-জনতা দেশীয় অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে ইপিআর বাহিনীর সঙ্গে একসঙ্গে পাকিস্তানী সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ৩০ ও ৩১ মার্চ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সম্মুখযুদ্ধে মাত্র ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ১ এপ্রিল সর্বপ্রথম কুষ্টিয়া জেলাকে শত্রুমুক্ত করে। ওই যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর অফিসার ও সৈনিকসহ ২১৬ জন সকলেই নিহত হয়। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সর্বপ্রথম এই বিজয় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

(চলবে)

লেখক : হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি