২৬ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইভিএমে মানুষের রায়ের প্রতিফলন কখনই ঘটবে না ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইভিএমে ইচ্ছমতো ভোট কারচুপি করা যায় অভিযোগ করে অবিলম্বে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে এ পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী হেল্প সেল’ নামক একটি সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে গুম হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ১০ পরিবারের সন্তানদের হাতে হাতে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

ফখরুল বলেন, আমরা ইভিএমের বিরোধিতা করছি এ কারণে যে, এ পদ্ধতিতে কখনই মানুষের রায় প্রতিফলন হবে না। তাই আমরা এখনও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এ পদ্ধতিতে করার বিরোধিতা করছি। তিনি বলেন, সোমবার চট্টগ্রামে উপনির্বাচন হয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে যেতেই দেয়া হয়নি। তার আগেই বোমা মেরে লাঠিসোটা দিয়ে ভোটারদের তাড়িয়ে দিয়েছে। তারপরও জিজ্ঞাসা করলে বলবে যে, আপনারা পারেননি। পারব কোত্থেকে? গু-ামি আর সন্ত্রাসী কার্যকলাপ যারা করে তাদের সঙ্গে ভদ্রলোকেরা পারবে কিভাবে?

ফখরুল বলেন, যারা ভোটার তারা তো মারামারি করে না। তারা তাদের অধিকারটা প্রয়োগ করতে চায়, সেটা প্রয়োগ করতে দেয়া হয় না। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। এমন একটা সমাজ তৈরি করছে, এমন একটা রাষ্ট্র তৈরি করছে, যে সমাজ এবং রাষ্ট্র এদেশের মানুষের ভবিষ্যতকে তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সেজন্য বলি যে, বাংলাদেশ একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে। তারপরও বলি, হতাশ হবেন না, ছেড়ে দেবেন না। যত কষ্ট আসুক, যত যন্ত্রণা আসুক, যত অত্যাচার-লাঞ্ছনা আসুক এদেশের মানুষ বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে। সব জায়গায় প্রতিরোধ হচ্ছে, প্রতিরোধ হবে।

ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত কর্মকর্তাদের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, কার কি ব্যাকগ্রাউন্ড আমরা জানি। যাদের কোন মোরালিটি নেই তাদেরই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। আর সেই মানুষগুলোই সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভোটে ইভিএম এনেছে, যে ইভিএমকে ইচ্ছে মতো ম্যানিপুলেটেড করা যায়।

গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের ছোট ছোট সন্তানদের দিকে তাকিয়ে আবেগপ্রবণ কণ্ঠে ফখরুল বলেন, আজকে শিশুরা এখানে আছে। ওরা প্রতিমুহূর্তে ভাবে যে, তার বাবা ফিরে আসবে। মায়েরা ভাবেন যে, এই বোধহয় ছেলে দরজা নক করল। স্ত্রী অপেক্ষা করে থাকেনÑ কখন তার প্রিয় মানুষটা পাশে আসবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে এখন একটা অসহনীয় দম বন্ধ করা পরিবেশ বিরাজ করছে। এ সমাজ কিভাবে এ ধরনের একটা পরিস্থিতি সহ্য করছে এটাও একটা চিন্তার ব্যাপার।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সুপরিকল্পিতভাবে দেশের মানুষের স্বপ্নগুলোকে ছারখার করে দিয়েছে, তছনছ করে দিয়েছে। এজন্য তাদের দাম্বিকতার শেষ নেই। তাদের কথা শুনবেন, তারা যে বক্তব্য রাখে, তারা যে কথা বলে, তার মধ্যে তাদের যে দাম্বিকতা প্রকাশ পায়। এ জন্য কখনও তাদের অনুতাপ হয় না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সকলকে উঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেই দেশের গুমোট পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, যারা আমাদের সরকারে আছেন তারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছেন। তারা যখন বক্তব্য রাখেন মনে হয় যেন কিছুই হয়নি দেশে, চমৎকার পরিবেশ আছে, দেশের মানুষ খুব ভাল আছে।

খালেদার মুক্তির দাবিতে মিছিল

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি নির্বাচনে আছে থাকবে ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী থেকে জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল। একটি পলিটিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি হিসেবে নির্বাচনে থাকাটা বড় প্রয়োজন। আমরা সে কারণে এতো বৈরী পরিবেশের মধ্যে, প্রতিকুল অবস্থায়ও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে অংশ নিয়েছি। মঙ্গলবার রাতে ঠাকুরগাঁও যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে একথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে আমরা ভাল করে চিনি, অযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন। আর এই সরকার কখনও একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে দেবে না। তারা জানে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কোন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিততে পারবে না। সে কারণে এ সময় বাধা, গোলযোগ সৃষ্টি করবে, বিএনপি বা বিরোধী দলের প্রার্থীদের প্রতি চড়াও হবে। তারপরও নির্বাচনে বিএনপি আছে, থাকবে এবং এভাবে বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।

অপর দিকে এ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের জবাবে ফখরুল বলেন, বিষয়টা তাদের পরিকল্পিত এবং সাজানো। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা একটি মামলা দিয়ে সাজা দেয়া হয়েছে, রাজনীতি থেকে তাকে দূরে সরিয়ে রাখবেন বলে সেটি করিয়েছেন। তাহলে আপনারা নির্ধারণ করে দেন, সাজা কত বছর হবে, মুক্তি কবে হবে- আর সেটিই তার বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা যে বলি সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে- সেটাই তো প্রমাণিত হচ্ছে। আর ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথা আমি বেশি একটা আমলে নেই না।

নির্বাচিত সংবাদ