১৯ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা-২০২০ পরিচালনায় অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকরা বলছেন, বিচারক বাছাইয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুস্পষ্ট নির্দেশনা না থাকার সুযোগ নিচ্ছেন কেউ কেউ, আর এতে শিশুরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে অনুষ্ঠিত ঢাকা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ‘গ’ বিভাগের সাধারণ ও লোকনৃত্যের বিচারকার্যে অনিয়ম হয়েছে দাবি করে কয়েকজন অভিভাবক ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগপত্রও জমা দিয়েছেন।

একজন প্রতিযোগীর মা ও শিশু একাডেমির শিক্ষক ফাহমিদা বান্ওু অভিযোগপত্রে সই করেছেন। তিনি বলেন, যে প্রথম হয়েছে তার মা প্রতিযোগিতার আগে অনেকবার আমাকে ফোন করে বলেন তার মেয়েকে যে কোন উপায়ে প্রথম করে দিতে। আমি অপরাগতা প্রকাশ করলে তিনি আর ফোন করেননি। পরে উনি একাডেমির অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার মেয়েকে প্রথম করেছেন বলে শুনেছি। আমিও শিক্ষক হিসেবে অনেক শিশুকেই চিনি যারা অনেক ভাল নাচে। কিন্তু তাদের কেউ না হয়ে ওই অভিভাবকের মেয়ে দুইটিতেই প্রথম হওয়া সন্দেহজনক। আরেক প্রতিযোগী ইমামা আসমীর মা শেফালী শিরীন বলেন, প্রতিযোগিতায় সুবিচার যে হয়নি এটা সবাই জানে। প্রতিযোগিতাটি বাতিল করা উচিত। এই ক্ষেত্রে আমার সন্তানও প্রথম হতে পারে, নাও পারে। কিন্তু শিশুদের একটি প্রতিযোগিতা নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠা খুবই লজ্জার।

‘গ’ বিভাগের একজন প্রতিযোগীর মা সানজিদা আক্তার বলেন, গত ১০ জানুয়ারি সকালে তিনি একজন নৃত্যশিক্ষকের বাসায় গিয়েছিলেন মেয়ের নাচ একটু দেখিয়ে নিতে। সেখানে অবস্থানকালে তিনি দেখেন, ওই শিক্ষক শিশু একাডেমির সহকারী পরিচালক তাহমিনা পারভীনকে ফোন করেছেনে। তিনি তাকে বলেন, একজন প্রতিযোগীর মা তার মেয়েকে ‘গ’ বিভাগের নৃত্যের দুটো বিষয়ে যে কোন মূল্যে প্রথম করানোর জন্য ধরাধরি করছেন। বিচার চলাকালে দেখা যায়, একজন বিচারক অমনোযোগের সঙ্গে বিচারকার্য পরিচালনা করছেন। তিনি একজন প্রতিযোগিতার নাচ শেষে তার ছবি তুলেন এবং পরে দেখা যায় এই প্রতিযোগী দুই বিভাগে প্রথম হয়েছে। কালের কণ্ঠের হাতে আসা নম্বরপত্রে দেখা যায়, তিনজন বিচারকের মধ্যে দুইজনের বিচারে কম নম্বরপ্রাপ্ত প্রতিযোগীকে ওই বিচারক বেশি নম্বর দিয়ে প্রথম করেছেন।

ডিসিকে দেয়া অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, শিশু একাডেমির এই প্রতিযোগিতার নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘সৃজনশীল নৃত্য ও লোকনৃত্যের ক্ষেত্রে সঙ্গীতটি অবশ্যই বাংলাদেশের শিল্পীর কণ্ঠে হতে হবে এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকতে হবে’। তবে দুই বিষয়ে প্রথম হওয়া প্রতিযোগীটি একটি নৃত্যের গানটি ছিল হিন্দি থেকে বাংলা করা এবং ভারতীয় শিল্পীর গাওয়া।

এই অভিভাবকদের একজন অনিয়মের নমুনা হিসেবে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার দুটো সনদ কালের কণ্ঠকে দেখান। এতে দেখা যায়, একই প্রতিযোগীকে তৃতীয় স্থানের সনদ দিয়ে তা ক্রস দাগ দিয়ে কেটে নতুন আরেকটি সনদ দেয়া হয় প্রথম স্থান উল্লেখ করে। এই অভিভাবকের দাবি, তিনি চ্যালেঞ্জ করার পর শিশু একাডেমি মিরপুর শাখা নম্বর যাচাই করে নতুন করে ন্যায্য ফলাফলের সনদ দিয়েছিল। এরপর গত বছর প্রতিযোগিতাটি একাডেমির কেন্দ্রীয় শাখায় হলেও এবার ফের মিরপুরে নেয়া হয়।

এদিকে নম্বরপত্রে আরও দেখা যায়, ঢাকার তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, লালবাগ, শেরেবাংলানগর, দোহার ও নবাবগঞ্জ থানার কোন প্রতিযোগী নেই। অভিযোগ উঠেছে, থানায় নির্দেশনা পাঠানো হয়নি বা ঠিকমতো পৌঁছেনি।