২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেয়ারবাজারে সূচকের বড় উত্থান

 শেয়ারবাজারে সূচকের বড় উত্থান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সরকারের নানামুখী তৎপরতায় আগের দিন লেনদেনের শুরুতে বড় উত্থানের ইঙ্গিত দিলেও দিন শেষে মূল্যসূচক বেড়েছিল ৩২ পয়েন্ট। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। শেয়ারবাজারকে সার্পোট দিতে সরকার অর্থ ছাড় দিতে যাচ্ছে এমন ইতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারের ক্রয়াদেশ বাড়তে থাকে। ফলে একদিনে সব ধরনের সূচকই দুই শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহের সোমবার ও মঙ্গলবার কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই শেয়ারবাজারে বড় পতন হয়। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সৃষ্ট আতঙ্কে বিক্রয় চাঁপে ওই পতন হয়। তবে সরকারি চার ব্যাংককে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের নির্দেশের খবরে বুধবার শেয়ারবাজার কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতায় ফিরেছিল। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়েনি। দ্বিতীয় দিনেও সকাল থেকেই ইতিবাচক প্রবণতায় ফিরে আসে। একবারের জন্যও সূচক নেতিবাচক হয়নি। শেষ বিকেলে শেয়ারবাজারে নগদ প্রবাহ বাড়ানোর জন্য সরকার অর্থ ছাড় করতে যাচ্ছে এমন আশ্বাস ছড়িয়ে পড়ায় সূচক বেড়ে যায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানে বড় ভূমিকায় ছিল গ্রামীণফোন এবং স্কয়ার ফার্মা। এই দুই কোম্পানি মধ্যে গ্রামীণফোনের মাধ্যমে ২৩ পয়েন্ট এবং স্কয়ার ফার্মার মাধ্যমে ১৬ পয়েন্ট বেড়েছে। এছাড়া রেনেটা, বৃটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, ব্র্যাক ব্যাংক ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজও উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।

এদিন ডিএসইর মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৮২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৫০ পয়েন্ট। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ২৬, ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ এবং নতুন চালু হওয়া সিডিএসইটি সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯৪০, ১ হাজার ৪০৭ ও ৮৪৫ পয়েন্টে।

ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ২৬৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। যা আগের দিন থেকে ২৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৪২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার।

ডিএসইতে ৩৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৪টির বা ৫৫ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ১১২টির বা ৩২ শতাংশের এবং ৪৭টি বা ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

টাকার অংকে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে স্কয়ার ফার্মার শেয়ার। এদিন কোম্পানিটির ২১ কোটি ৩২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা লাফার্জহোলসিমের ১১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার এবং ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে নেমেছে এডিএন টেলিকম।

ডিএসইর লেনদেনে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে : সী পার্ল, ব্র্যাক ব্যাংক, গ্রামীণফোন, রিং শাইন, বিকন ফার্মা, খুলনা পাওয়ার এবং স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ২৩০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬২৩ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১০৫টির, কমেছে ৮৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির দর। সিএসইতে ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।