২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে নজর দিন

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে অন্যসব সূচকেই দেশ যখন ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন শেয়ারবাজারের দিকে তাকালে রীতিমতো করুণা হয়। গত কয়েকমাস ধরেই দেশের পুঁজিবাজারে কেবলই দরপতনের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার ডিএসইএস সূচক ৮৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১১ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৪ হাজার ৩৬ পয়েন্টে। ২০১৫ সালের ৫ মের পর এটিই ডিএসইএক্সের সর্বনিম্ন অবস্থান। গত আট দিনে সূচকটি কমেছে ৪২৩ পয়েন্ট। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে ২০১০ সালে বড় ধসের পর ১০ বছরের ব্যবধানে নতুন করে ধস নেমেছে শেয়ারবাজারে। তাতে ডিএসইর প্রধান সূচকটি নেমে এসেছে ৪ হাজার ৩৬ পয়েন্টের কাছাকাছি। অথচ ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি সূচকটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ৪ হাজার ৫৬ পয়েন্টে। অব্যাহত দরপতনে স্বভাবতই আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে প্রায় সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীর মধ্যে। বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা দুরাশা। ফলে নিঃস্ব তথা পথে বসার আগেই বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছেন অনেক বিনিয়োগকারী। বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়েছে। তৈরি হয়েছে ক্রেতার সঙ্কট। একদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন হারিয়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। প্রতিদিনই ডিএসই ভবনের সামনে বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছেই। বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুনর্গঠনের দাবিও উঠেছে। সরকার তথা অর্থ মন্ত্রণালয় অবশ্য পুঁজিবাজারের সমস্যা-সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন। এক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে। যেমন, ঋণ হিসেবে জরুরীভিত্তিতে দেয়া হচ্ছে ১০ হাজার কোটি টাকা। জরুরী বৈঠকে বসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংককে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। এগিয়ে আসতে বলেছে বেসরকারী ব্যাংকগুলোকেও, তবে বিপুল অঙ্কের খেলাপী ঋণের বোঝাসহ নয়-ছয় সুদহার কার্যকরের মুখে ব্যাংকগুলো তা কতটা করতে পারবে তাতে সন্দেহ রয়েছে। তীব্র তারল্য সঙ্কট, সুশাসনের অভাব, স্বার্থান্বেষী মহলের কারসাজি, বিদেশী কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির চাপ, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পুঁজিবাজারের সঙ্কটের মূলে বলে অনেকেরই ধারণা। আমরা আগেও বলেছি, শেয়ারবাজারে বুঝেসুজে বিনিয়োগ করা সমীচীন। শেয়ারবাজারে গিয়ে কিছু লোক যেমন অল্পকালের ভেতর কোটিপতি হয়েছেন, তেমনি আবার মূল পুঁজি হারিয়ে পথে বসে পড়ার মতো অবস্থাও হয়েছে বহু লোকের। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেককেই সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে। পরবর্তীকালে তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাই শেয়ারবাজার সম্বন্ধে সম্যক ধারণা নিয়েই এখানে বিনিয়োগ করা উচিত।

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ওঠানামা খুব বেশি হয়। তাছাড়া বহু বিনিয়োগকারী না বুঝেই শেয়ারবাজারে পুঁজি খাটান। বুঝেসুজে বিনিয়োগ করলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। বেশিরভাগ শেয়ার অতি মূল্যায়িত। কোম্পানির অস্তিত্ব নেই, অথচ শেয়ারের দাম বাড়ছে- এ ধরনের চিত্রও পাওয়া যায়। শেয়ারবাজার আসলে তথ্যের বাজার। যার কাছে তথ্য আছে সেই বেশি লাভবান। অর্থনীতির নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারবাজার ফাটকা বাজারেরই অংশ এবং এর মূল কথাই হচ্ছে ঝুঁকি। এটা ঝুঁকির বাজার। সুতরাং ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখেই কেবল এই বাজারে টিকে থাকা যায়। আরেকজনকে দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া সঠিক পদ্ধতি হতে পারে না। কোম্পানি প্রোফাইল দেখে বিনিয়োগ করাই বিচক্ষণতা। কখন কিনতে হয় আর কখন বিক্রি করতে হয় সেটি বুঝতে হবে। মোটকথা, জেনে-বুঝেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। মানুষ আশা করে, সরকারী হস্তক্ষেপে সঙ্কট কাটিয়ে শেয়ারবাজার আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠবে। তবে সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য চাই সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা, আন্তরিকতা, সততা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে যথাযথ ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ।