২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাত বছরে দেশে বেকার দ্বিগুণ

সাত বছরে দেশে বেকার দ্বিগুণ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চাকরির সুযোগ কমে আসায় সাত বছরে দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।এরমধ্যে উচ্চ শিক্ষিত ১১ শতাংশ যুকব চাকরির বাজারে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন না। আইএলওর এক পরিসংখ্যা থেকে বেরিয়ে এসেছে এমন ভয়াবহ চিত্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মসংস্থানের উপযোগী শিক্ষা পাচ্ছে না তরুণরা। ফলে দেশে বাড়ছে বেকার তরুণের সংখ্যা।তাদের পরামর্শ, যে শিক্ষায় মিলবে রুটি-রুজি সেদিকেই হাঁটতে হবে।

লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে। বাংলার অতি প্রচলিত একটি প্রবাদ। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে, কতখানি বাস্তবতা বহন করে এই প্রবচন?

ধরা যাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর কথা। নাম আহমেদ দিদার। ভূগোল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে সুযোগ পেয়েও তিনি কি নিশ্চিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ বছরের লেখাপড়াকে কাজে লাগিয়ে ভালো একটা চাকুরির সুযোগ পাবেন তিনি?

আইএলওর গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে দিদারের মতো ১১ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত চাকুরির বাজারে ঢোকারই সুযোগ পান না।

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আফতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ছাত্রছাতীরা তারা মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রীই ভবিষৎ কিন্তু আসলেই তো তা নয়, এখানে আপনে অনার্স, মাস্টার্স, পিএইচডি করেও আমাদের যেই প্রয়োজন, যেই কর্মদক্ষতা দরকার সেটাতো হচ্ছে না। এজন্য আমাদের কর্ম উপযোগি শিক্ষা বেশি প্রয়োজন।

আবার এই বাংলাদেশ থেকেই প্রতিবেশী দেশ ভারতের উচ্চ শিক্ষিতরা পোশাকসহ বিভিন্ন খাত থেকে নিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু কেন?

বেসকারি সংস্থা ব্র্যাকের এক গবেষণায় দেখা যায়, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় যেসব উচ্চ শিক্ষিত প্রতিবছর বের হচ্ছেন তাদের বেশিরভাগ বাজার চাহিদার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

বর্তমান ও ভবিষ্যত সংকট মাথায় রেখে গবেষণার আলোকে সরকারের পাশাপাশি কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে বেশ কিছু সমাধানের পথওবের করেছে সংস্থাটি

তবে উদ্যোগ যাই নেয়া হোক, সেগুলো যদি দ্রুত বাস্তবায়ন না করা যায়, তাহলে পরিণতি বলাই বাহুল্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টকে কাজে লাগিয়ে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ, তা আর বাস্তবে রূপ নেবেনা, যদি না এসব তরুণদেরকে কর্মদক্ষ করে কর্মক্ষেত্রে উপযোগী করে তৈরি করা যায়।