২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কমিউনিটি ক্লিনিকের অগ্রযাত্রা

যে কোন কর্মযোগে চাই সঠিক জ্বালানি, প্রেষণা ও প্রেরণা। কর্মীবলকে বঞ্চিত রেখে সম্ভব নয় কর্মপরিধি বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূরণ। কমিউনিটি ক্লিনিকের মতো সহযোগী ও সমান্তরাল একটি স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম গতিজড়তা কখনই কাম্য ছিল না। এজন্য আইনের প্রয়োগ ছিল প্রত্যাশিত। শেষ পর্যন্ত মার্চের মধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইনের বাস্তবায়ন শুরুর সংবাদ সংশ্লিষ্টদের স্বস্তি দেবে। আইনটির বিধি-প্রবিধি তৈরি করার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। আইনটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে হেলথ প্রোভাইডাররা দেশে প্রচলিত অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় কর্মরত কর্মচারীদের ন্যায় তাদের স্থায়ীকরণ, বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুযোগ, গ্র্যাচুইটি এবং অবসরভাতাসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন। এতে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজমান অসন্তোষ শুধু দূর হওয়াই নয়, গতি আসবে কাজেও। উল্লেখ্য, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তাপ্রসূত একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কার্যক্রম, যা বর্তমান সরকারের সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, দেশে-বিদেশে নন্দিত।

সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবার শুভবোধ থেকেই প্রায় দুই দশক আগে দেশে শুরু হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্যক্রম। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত অংশীদারিত্বে এই কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জাতি গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। বলাবাহুল্য, ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কমিউনিটি ক্লিনিক ধারণা এবং এর বিস্তৃতি একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এরই মধ্যে এই উদ্যোগের সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে। সরকার এই কমিউনিটি ক্লিনিকের উন্নয়নে বাড়তি মনোযোগ স্থাপন করেছে। তার ফলস্বরূপ গত বছরই কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন পাস হয়। আইনী বা সাংগঠনিক কাঠামোর দুর্বলতার জন্য শুরুর দিকে এই কার্যক্রমের যাত্রায় কিছুটা সমস্যা থাকলেও এখন আর তা নেই। সরকার স্বাস্থ্যসেবা গ্রামীণ জনপদের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কমপক্ষে সাধারণ চিকিৎসা, জন্মনিয়ন্ত্রণ, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, আমাশয়, সাধারণ জ্বরজারিসহ ছোটখাটো রোগের চিকিৎসা যেন সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে ওষুধসহ পায় সে ব্যবস্থা করতে চায়। নিঃসন্দেহে এ ধরনের মনোভাব অভিনন্দনযোগ্য। এটি স্বাস্থ্যসেবার আমূল পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে বলে মানুষ আশাবাদী।

গত এক দশকে ৬২ কোটি ৫৭ লাখ সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে। বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে ২৩০ ধরনের ওষুধ। সব মিলিয়ে সরকার ১৪ হাজার ৮৯০টি ক্লিনিক নির্মাণে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। বর্তমানে প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সর্বসাধারণকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ প্রদান করছেন। একই সঙ্গে সপ্তাহের তিন দিন পুষ্টি বিষয়ে এবং তিন দিন পরিবার কল্যাণ বিষয়ে সেবা তথা ধারণা দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল জাতি গঠনে সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সদিচ্ছার প্রকাশ লক্ষণীয়।

দেশের স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে নজির গড়েছে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’। কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত। বিশ্বের অনেক দেশ কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম রোল মডেল বিবেচনায় নিয়ে নিজ দেশে তা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে কমিউনিটি ক্লিনিকে দেশে প্রতিদিন সাত লাখ মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছে। বর্তমানে দেশে ১৩ হাজার ৭৪৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে।

দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক যেন গ্রামের দরিদ্র মানুষকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারে এজন্য সরকার, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি গ্রুপ ও সাপোর্ট গ্রুপসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আরও উদ্যোগী হবে এই প্রত্যাশা দেশবাসীর।