২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুর্যোগ মোকাবেলায়

বর্তমান সরকার উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং নির্বাচনের অঙ্গীকার পূরণে নতুন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ফি বছরের বাস্তবতা। সমুদ্র তীরবর্তী আর নদ-নদী বিধৌত এ শ্যামল বাংলা প্রকৃতির রুদ্র রোষে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে উপকূলীয় জনজীবনে যে তান্ডব চালায় তাও এদেশের একটি অতি পরিচিত চিত্র। তেমন সমূহ সংহারকে সামলাতে ২০০৯ সাল থেকে নির্বাচিত সরকারও কল্যাণমুখী বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন এবং বাস্তবায়নে প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ এলাকাকে যথার্থভাবে চিহ্নিত করে সাইক্লোন শেল্টার তৈরির মহাপরিকল্পনাও চলমান সরকারের একটি গণবান্ধব কর্মসূচী। সেই লক্ষ্যমাত্রায় এ পর্যন্ত ১৭০টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বন্যা এবং সাইক্লোন আক্রান্ত ভোলা জেলায় নির্মাণ করা হবে সব থেকে বেশি- ৯৭টি। সমুদ্র উপকূলবর্তী জেলা চট্টগ্রামে তৈরি হবে ৭৩টি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১৯ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক উত্থাপিত এই মেগা প্রকল্পটি আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। ‘বহুমুখী দুর্যোগ ও আশ্রয় কেন্দ্র’ শীর্ষক এই মহাপরিকল্পনা বিরূপ প্রকৃতিকে সামলানোর লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাবে বলে স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়। প্রকল্পের আওতায় আশ্রয় কেন্দ্রের সঙ্গে সড়ক সংযোগও নির্মাণ করা হবে, যাতে দুর্যোগে আক্রান্ত সাধারণ মানুষ উন্নতমানের রাস্তাঘাট দিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে পারে। চট্টগ্রাম এবং ভোলা দুই জেলায় সাইক্লোন শেল্টারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ অবিচ্ছিন্ন করা হবে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার উপদ্রুত বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সাইক্লোন শেল্টার তৈরি করে সমস্যা সমাধানে কিছুটা এগিয়েও নিয়েছে। সেটাকেই আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে নতুন এই প্রকল্প গ্রহণ করে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলেই এই মেগা প্রকল্প তার নির্দিষ্ট কর্মপ্রবাহে এগিয়ে যাবে। তবে যথার্থ সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং বছরব্যাপী কিছু কর্মযোগও এতে সন্নিবেশিত করলে সাইক্লোন শেল্টার শুধু আশ্রয়ের স্থান হবে না, অনেক প্রয়োজনীয় নিত্য চাহিদা মেটাতেও বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারবে।

বহুতলবিশিষ্ট এসব আশ্রয় কেন্দ্রের একেবারে মূল জায়গা থেকে কর্মপ্রক্রিয়া সংযুক্ত করা জনস্বার্থেই জরুরী। আশ্রয় কেন্দ্রগুলো আকারে বড় হয় এবং চার পাশে অনেক খোলা জায়গাও পড়ে থাকে। এসব স্থান পরিত্যক্ত হিসেবে না রেখে কিছু কার্যপ্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করলে অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা সংশ্লিষ্টরা পেতে পারে। যেমন গ্রামগঞ্জের উপকূলের ধারে-কাছে নির্মিত এমন কেন্দ্রে পশু পালনের ওপর আরও একটি প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খুব একটা কঠিন কাজ নয়। গ্রামবাসী এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকলে তাদের উপকার হবে সব থেকে বেশি। তাছাড়া নিচে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি পালনের ব্যবস্থা থাকলে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় খাদ্য সংস্থান করতেও সহায়ক হতে পারে। আবার সারা বছর বিক্রি ব্যবস্থায় প্রকল্পটিকে বাণিজ্যিক রূপ দিতেও খুব একটা অসুবিধা হবে না। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় গৃহীত উন্নতমানের ভবন তৈরির আধুনিক প্রকল্পও সংশ্লিষ্ট মানুষের কল্যাণেই যাবে। যেমন নারী-পুরুষের আলাদা রুমই শুধু নয়, বাথরুমেও থাকবে ভিন্ন ব্যবস্থা। আর সুপেয় পানির সরবরাহ করতে আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাকে আয়ত্তে আনা জনস্বাস্থ্যে জরুরী। উন্নতমানের রান্নাঘরও আশ্রয় কেন্দ্রের আবশ্যিক পূর্বশর্ত, যাতে বিপন্ন পরিবেশে রান্নাবান্নারও সুযোগ থাকে। সব থেকে বেশি সতর্ক আর সাবধান হতে হবে যাতে পুরো প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতার কবলে কিংবা বাস্তবায়নের পথকে কোনভাবেই বিঘ্নিত করতে না পারে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ই শুধু নয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষেরও বিশেষ নজরদারির প্রয়োজন আছে, যাতে নির্বিঘ্নে, গতিশীল কার্যক্রমটি জনকল্যাণে প্রয়োজনীয় সমন্বয় আর নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে সম্পন্ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। জনকল্যাণমুখী এই মহৎ সম্প্রসারিত কর্মপরিকল্পনা তার নির্দিষ্ট গতিতে গন্তব্যে এগিয়ে যাবে- এমন প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।