২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে দেয়া হবে না : রব

সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে দেয়া হবে না :  রব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শনিবার বিকালে ফ্রন্টের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই ইভিএমকে সারা পৃথিবীতে বর্জন করেছে। এই ইভিএমকে বুড়িগঙ্গা নয়, বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেয়া হোক। এই মেশিন বাংলাদেশের মানুষ চায় না। এই ইভিএম ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচনের তারিখ ঠিক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার দুই সিটিতেই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এ ভোট করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ইসির পক্ষ থেকে। শুরু থেকেই বিএনপি সহ তাদের মিত্র দলগুলো ইভিএম ভোটের বিপরীত অবস্থানে। বিএনপির পর এবার ইভিএমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালো জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যদিও সংবাদ সম্মেলনে ফ্রন্টের প্রধান ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন না।

ফ্রন্টের অন্যতম শরিক নেতা রব বলেন, ভোটাররা যদি বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ছুঁড়ে ফেলে দেয়, আমাদের বলার কিছু থাকবে না।

রব বলেন, নতুন ডাকাতির পদ্ধতি হচ্ছে ইভিএম। নতুন ডাকাতির বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করছি এই মেশিন চালু করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন বলেছিল যদি ভোটার এবং যারা অংশীদার তারা যদি না চায় ইভিএম চালু করবেন না। এখন দেখা যাচ্ছে জোর করে নির্বাচন কমিশন ভোট ডাকাতির জন্য পেপার ট্রেইল ছাড়া ইভিএম চালু করছে। পেপার ট্রেইল ছাড়া ইভিএম চালু আমরা সমর্থন করছি না।

ইভিএমেই ভোট হচ্ছে- তাহলে আপনারা ভোট বর্জন করবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে জেএসডি প্রধান বলেন, আন্দোলনে বর্জন হতে পারে, বর্জনের পরে আর কিছু থাকে না, বর্জনের পওে তো আর কিছু নাই। আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব। যদি শেষ পর্যন্ত আর কোনো পথ না থাকে তখন সর্বশেষ পথ সেটা অবলম্বন করব কিনা সেটা এই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেইনি আমরা।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, বর্তমান বাংলাদেশে যে নির্বাচন কমিশন, যে কমিশনকে জনগণ মনে করে তাদের স্বার্থের পরিপন্থি কাজ করছে, সরকারের পক্ষে কাজ করছে। সেই নির্বাচন কমিশনের যিনি কমান্ড করবেন এমন ব্যক্তির মাধ্যমে পেপার ট্রেইল ছাড়া ইভিএম চালু করা বাংলাদেশে আমরা গ্রহণ করি না।

ঢাকা সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার এবং নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির আবদুল মঈন খান, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারার নূরুল আমিন ব্যাপারী, গণস্বাস্থ্য সংস্থার জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে রব বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নেই। সে কারণে সুষ্ঠু ভোট ছাড়াই ক্ষমতা দখল ও ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নিত্যনতুন কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। জনগণকে নানাভাবে হয়রানি ভয়ভীতি, সন্ত্রাস ও গ্রেফতারের মাধ্যমে নির্বাচন বিমুখ করা হয়েছে। নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, যেকোনো যন্ত্র বা প্রযুক্তি চলে মানুষের কমান্ডে। কিন্তু যারা কমান্ডে আছে তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ইভিএমের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করবে একথা বলাই বাহুল্য। ইভিএমে প্রযুক্তি এবং তথ্য পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, মধ্যরাতে ভোটের ধারাবাহিকতায় এটা হবে আরও একটি জঘন্য দৃষ্টান্ত। ইভিএম পদ্ধতি বিতর্কিত এবং সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। এভাবে ভোট করলে তা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া, পদ্ধতি ও ব্যবস্থাকে অশুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে নিঃসন্দেহে।

জেএসডির সভাপতি আরো বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাচন সম্পর্কে প্রকাশ্যে পেপার ব্যালটের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষিত হবে। কিন্তু ইভিএমে ভোটের গোপনীয়তা থাকে না, ভোটারদের কাছে কোনো প্রমাণ থাকে না। একটি সত্যিকারের গণতন্ত্রেও মৌলিক অধিকার ও সংবিধান লঙ্ঘন। জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণ সেই মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেন। তারা সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করেন। কিন্তু বর্তমানে দেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। ভোট ছাড়াই নির্বাচন ও সরকার গঠিত হচ্ছে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে করে কলঙ্কলেপন করেছেন। ২০২০ সাল বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বছর। এই বছর আর ভোট কারচুপি না করে পদত্যাগ করুন।