২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বপ্ন পূরণের রূপকল্প

উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণে দ্বিতীয় ধাপে আরও এক শ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ার সুসংবাদ পাওয়া গেল বছরের শুরুতেই। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিশেষ আগ্রহ। বিনিয়োগের ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়বে এবং দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সরকার দ্বিতীয় দফায় এক শ’ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরের বছরই ২০১০ সালে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার ঘোষণা দেয়। এর বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বা বেজা। ফলে বাড়ছে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ। এর জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮০ হাজার একরেরও বেশি জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীন, ভারত, জাপানসহ উন্নত দেশগুলো থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ভারত মোট ২৭৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এমন ব্যাপক আগ্রহ দেশের অর্থনীতিতে অমিত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে বলে বলে আশা করা যায়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ১৫ বছরের মধ্যে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবছর অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় এবং ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রত্যাশা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে বেশি সংখ্যক অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার দেশে অধিকতর উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন; এবার এলো আরও ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের অঙ্গীকার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় সম্পদের পর্যাপ্ততার ভিত্তিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠা ইতিবাচক ফল দেবে। কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপনও নিঃসন্দেহে দূরদর্শী কাজ হবে। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা মানেই নতুন বিনিয়োগ। নতুন বিনিয়োগে ব্যাপক শিল্পায়ন হলে দেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বিরাট সম্ভাবনার দরোজা খুলে যাবে। সব মিলিয়ে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব। ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথার্থই বলেছিলেন, ৩শ’ কোটি মানুষের বিশাল বাজারে যোগাযোগের পথ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির কেন্দ্র হয়ে ওঠার এ বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। পূর্ব এশিয়া, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশের মধ্যবর্তী হওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও ভারতের ব্যবসার অন্যতম ক্ষেত্র হতে পারে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি, অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি, উদার গণতন্ত্র এবং আধুনিক মন-মানসিকতা বিদ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশই হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ায় ‘ইকোনমিক হাব’ বা অর্থনৈতিক অঞ্চল।