২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

ইরানকে কেন্দ্র করে গোটা মধ্যপ্রাচ্য এমনকি বিশ্ব পরিস্থিতিও ক্রমশ উত্তপ্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় এক যুদ্ধাবস্থাকে কেন্দ্র করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, যা অনিবার্য প্রভাব ফেলতে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ৩ জানুয়ারি ইরাকের বাগদাদে ইরানের কুদস বাহিনীর জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আকস্মিক ড্রোন হামলায় হত্যার পর চির বৈরী দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায় ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সেনা ছাউনিতে। এমনকি ভুলবশত নিক্ষেপিত দুটি ইরানী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সে দেশের অভ্যন্তরেই বিধ্বস্ত হয় একটি ইউক্রেনীয় যাত্রীবাহী বিমান, যাতে নিহত হয় ১৭৬ যাত্রী। এ নিয়ে ইরানের ওপর রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয় কানাডা ও যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরানের ওপর। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচীর ওপর প্রবল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল আগে থেকেই। এর শেষ কোথায় অথবা কোন পথে আসবে শান্তি ও সমঝোতা তা বলতে পারে না কেউই। উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সর্বশেষ ভারতের নয়াদিল্লীতে নিরাপত্তাবিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর। তিনি বলেন, একতরফা নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি সমস্যা। এর থেকে বিশ্বকে-পরিত্রাণ পেতে হবে অবশ্যই। এদিকে ইউক্রেনের বেসামরিক বিমানকে ভূপাতিত করে মিথ্যাচারের কারণে ইরানে প্রায় প্রতিদিনই সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহু খামেনির পদত্যাগসহ প্রেসিডেন্ট রুহানীর বিরুদ্ধে চলছে সর্বস্তরের মানুষের ক্ষোভ-বিক্ষোভ, জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচী।

এর বাইরেও তুরস্কসহ ইয়েমেন, লিবিয়া, সিরিয়া, ইরাক, ইসরাইল, ফিলিস্তিন, এমনকি সৌদি আরবÑ প্রায় কোন দেশের অবস্থাই ভাল বলা যাবে না। এতদিন পর্যন্ত যা ছিল প্রধানত ইসরাইল ফিলিস্তিনকে কেন্দ্র করে, তা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে তথাকথিত ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠান নামেÑ আইএসের উত্থান-পতন, ইরাক-সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ, সৌদি কর্তৃক ইয়েমেনে হামলা সর্বোপরি লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ পর্যন্ত। সত্যি বলতে কি, গোটা মধ্যপ্রাচ্য যেন বসে আছে বারুদের স্তূপের ওপর। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ইরান-মার্কিন উত্তেজনা নতুন কী মাত্রা যোগ করে, তা এই মুহূর্তে পরিষ্কার নয়। তবে বিশ্ব এই সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক সমাধানের ওপর সবিশেষ জোর দিয়েছে।

গোটা মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনিতেই আইএস, আল কায়েদা, আল নুসরা ইত্যাদি নামে অভিহিত মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠী কবলিত। ২০১৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী ইরাক-সিরিয়ায় আইএসের বিভিন্ন জঙ্গী আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে বাশারবিরোধী মধ্যপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকেও দিয়ে আসছে সহায়তা। এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে তুরস্ক। তবে এবারই প্রথম ইরানের সামরিক বাহিনীর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তির ওপর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। এতে করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল কিনা, সে প্রশ্ন উঠেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’সহ যুদ্ধবিরোধী কথা বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এলেও জাতীয় বাজেটে তিনি সমরাস্ত্র খাতে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের রীতিমতো টানাপোড়েন চলছে। সর্বশেষ এতে যোগ হলো ইরান। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহী মনোভাবেরই প্রতিফলন ঘটছে। সবাই জানে আইএস, আল কায়েদাসহ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর উত্থানে প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে আমেরিকার। এখন সেই অপশক্তি যখন অনেকটাই কোণঠাসা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান অত্যাসন্ন, তখন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কী খেলায় মেতে উঠতে চায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।