১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্বাচন কমিশন একেবারেই ব্যর্থ ও অযোগ্য ॥ ফখরুল

নির্বাচন কমিশন একেবারেই ব্যর্থ ও অযোগ্য ॥ ফখরুল

অনলাইন রিপোর্টার ॥ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্তমান নির্বাচন কমিশন একেবারেই ব্যর্থ এবং অযোগ্য বলে দাবি করেছেন বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সিটি নির্বাচনের তারিখ তারা নির্ধারণ করেছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজোর দিনে। বড় সমস্যা হচ্ছে, নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোতেই পূজা হয়। এতে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারতো। কিন্তু এসব চিন্তা না করে তারা তারিখ নির্ধারণ করে। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার কারণেই এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়।’

রবিবার বেলা ১১টার দিকে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আসার পর থেকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংকুচিত করে ফেলছে বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ তারা রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। একইভাবে গত জাতীয় নির্বাচন ৩০ তারিখের পরিবর্তে ২৯ তারিখে করে নিয়েছে। আজকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও একটি দলের প্রার্থীরাই প্রাধান্য পাচ্ছে। অযোগ্য নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা নিতে সক্ষম নয়। কারণ, তাদের সেই যোগ্যতা নেই।’

ইভিএমে নির্বাচন মানে হচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার আরেকটা অপকৌশল বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইভিএমের মাধ্যমে জনগণের রায় কখনও সামনে আসবে না। এর ব্যবহার হচ্ছে একটা ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা। বিশ্বের কোনও দেশেই এই ব্যবস্থাকে ত্রুটিহীন সিস্টেম বলেনি।’

ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়াই জনগণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘জনগণ ব্যালটে ভোট দিলে চুরি-ডাকাতি না হলে মোটামুটি একটা ফল পাওয়া যায়। কিন্তু ইভিএমে যথেষ্ট ত্রুটি আছে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করার।’

জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং মুক্ত একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছিলেন।’

জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বদ্ধ অর্থনীতি মুক্ত অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছিল দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তখনই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত স্বল্প সময়ে তিনি এদেশের মানুষের মধ্যে একটি স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপির এখনও দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে, স্বাধীনতা ও সার্ভবৌমত্ব রক্ষা করছে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্য যে যখন আমরা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন করছি, তখন তার যোগ্য উত্তরসূরী ও সহধর্মিণী খালেদা জিয়াকে আওয়ামী শাসক গোষ্ঠী অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত করে রেখেছে। হাজার-হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, গ্রেফতার করেছে, খুন ও গুম করেছে। দেশকে অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।’

আজকে আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চায় বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সেই জন্য তারা নির্যাতন, অত্যাচারের স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আজ আমরা শপথ নিয়েছি, যে কোনও ত্যাগের বিনিময়ে হলেও দেশকে রক্ষা করবো এবং গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে জিয়াউর রহমানের আর্দশ অনুযায়ী বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবো।’

জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। একইভাবে ৭ নবেম্বর দেশকে আরও একটি সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। জাতিকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।’

নির্বাচিত সংবাদ