২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার, ভয়ঙ্কর পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

রশিদ মামুন ॥ নির্বাচনী পোস্টারে পলিথিনের মোড়ক ভয়ঙ্কর পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনী আইনে পোস্টার ব্যবহার সংক্রান্ত বিধি ও পলিথিন ব্যবহার সংক্রান্ত আইনে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকার সুযোগ নিচ্ছেন প্রার্থীরা। বৃষ্টি বা অন্য যেকোন কারণে পোস্টার নষ্ট হতে পারে এই অজুহাতে প্রায় সব নির্বাচনী পোস্টার লেমিনেটিং করা হয়েছে।

বৃষ্টির জন্য গত জাতীয় নির্বাচন থেকে পোস্টারে পলিথিন মোড়ক দেয়া শুরু। এবারও শীতের কুয়াশায় পোস্টার নষ্ট হতে পারে এই শঙ্কায় পোস্টার লেমিনেটিং করা হয়েছে। এবার ঢাকার দুই নির্বাচনে ৭৫৮ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতি প্রার্থী গড়ে দুই হাজার পোস্টার ঝোলালেও ১৫ লাখ ১৬ হাজার পোস্টার ঢাকার রাস্তায় ঝোলার কথা। বাস্তবতা হচ্ছে ঢাকার প্রধান সড়ক বাদ দিয়ে অলিগলির সব রাস্তা এখন লাখ লাখ পোস্টারে ছাওয়া। একটি নির্বাচনী পোস্টারের সর্বোচ্চ পরিমাপ হচ্ছে দৈর্ঘ্য ৬০ প্রস্থ ৪৫ সেমি। অর্থাৎ একটি পোস্টার ২ হাজার ৭শ’ বর্গ সেমি। যদি ধরে নেয়া হয় প্রতি প্রার্থী মাত্র ২ হাজার পোস্টার লাগিয়ে থাকেন তাহলেও ৪০ লাখ ৯৩ হাজার ২শ’ বর্গমিটার পলিথিন ব্যবহার হওয়ার কথা, যার পুরোটাই অপচনশীল। এসব পলিথিন পরিবেশে দীর্ঘদিন রয়ে যাবে। আবার পোড়ালেও ভয়াবহ দূষণ হতে পারে।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী উৎপাদন, বিক্রি ইত্যাদির ওপর বাধানিষেধ (৬) এর ক তে বলা হয়েছে সকল বা যেকোন প্রকার পলিথিন শপিং ব্যাগ, বা পলিইথাইলিন বা পলিপ্রপাইলিনের তৈরি অন্য কোন সামগ্রী যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে সারাদেশে বা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় এরূপ সামগ্রীর উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রি, বিক্রির জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশে পরিবহন বা ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। তবে একে শুধুমাত্র পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার বন্ধের নীতিমালা বলছে পরিবেশ অধিদফতর।

পলিথিন ব্যবহারের ফলে ড্রেন, নালানর্দমা, খালঝিল ভরাট হয়ে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। অন্যদিকে অপচনশীল পলিথিন নদী, পুকুর, জলাশয়ের তলদেশে জমা হয়ে পানি চোয়ানোর বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে পানিতে থাকা প্রাণবৈচিত্র্য, যেমন মাছ বা অন্যান্য প্রাণ-বৈচিত্র্য পরিবেশ-প্রতিবেশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। মাটি, পানি, বাতাস- তিন স্তরেই প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। অপচনশীল বলে এরা মাটির উর্বরা শক্তি মারাত্মক বিনষ্ট করে পলিথিন নালা-নর্দমা থেকে শুরু করে নদ-নদী সবস্তরেই পানির স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। একে পুড়িয়ে ফেললেও বাতাস ভীষণভাবে দূষিত হয়। খাবারে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে নানান স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পোস্টার লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ব্যবহার সংক্রন্ত বিধিনিষেধে ৮ এর সাতটি ধারা রয়েছে। এখানে পোস্টারের আকার, রং ও অন্যান্য বিষয়ের উল্লেখ থাকলেও পোস্টারে লেমিনেটিং বিষয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা, এমনকি আবার লেমিনেটিং করা যাবে সেটাও বলা নেই। ফলে ইসি ও প্রার্থী উভয়পক্ষই এই আইনের সুবিধা নিতে পারছে।

পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক পরিবেশবাদী সংগঠন পবার বর্তমান জেনারেল সেক্রেটারি প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান বলেন, ইসির আইনে লেমিনেটিং করা যাবে এমন বিধান যেহেতু নেই সঙ্গতকারণেই এভাবে পোস্টারে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ। তিনি বলেন এসব পলিথিন পরিবেশে রয়ে যাবে, এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এসব পলিথিনের বেশিরভাগেরই ঠাঁই হবে ঢাকার নর্দমা, সৃষ্টি হবে জলাবদ্ধতা।

পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহাম্মদ বলেন, আমাদের আইনে শুধুমাত্র পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ। তাই আমি পোস্টারে পলিথিন বিষয়ে কথা বলতে চাই না।