২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমকালীন প্রসঙ্গ

বিদেশী একটি গণমাধ্যমকে দেয়া দীর্ঘ সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খোলাখুলি নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। এ থেকে দেশবাসীর সামনে অনেক বিষয়ই পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রনায়োকোচিত বিচক্ষণতার পাশাপাশি মানবিক মানবতাবাদী ও মমতাময়ী রূপটিও ফুটে ওঠে। শুধু সমকালীর স্বদেশই নয়, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটও সুন্দরভাবে উঠে এসেছে আন্তরিক উত্তরমালায়। বড় প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়ও সাক্ষাতকারে বিশেষ গুরুত্ব পায়। স্পষ্ট করে বললে বলতে হয়, নাগরিকত্ব আইন যে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হয়। এই আইনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে নিপীড়নের শিকার হয়ে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের আগে ভারতে যাওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে বাংলাদেশ থেকে কারও ভারতে যাওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভারত থেকে কারও বাংলাদেশে আসার ঘটনাও ঘটেনি। তবে ভারতের মধ্যেই অনেকে আছেন নানা সমস্যায়।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমারের ভূমিকায় আবারও উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে। মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে কক্সবাজারে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট মিয়ানমারে শুরু, সমাধানও তাদের কাছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি মিয়ানমার। রোহিঙ্গারা সেখানে স্বেচ্ছায় ফিরতে রাজি না হওয়ায় দুবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগও ব্যর্থ হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমার ব্যর্থ হয়েছে। বিরাজমান বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদও উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি যথার্থই বলেছেন, এই সঙ্কট জিইয়ে রাখলে তা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমার কারণে কয়লা, তরল জ্বালানি, পরমাণু শক্তিই গ্যাসের বিকল্পÑ এই বাস্তব সত্যের পুনরুল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই বাস্তবতা এড়ানোর উপায় নেই যে, বর্তমানে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ায় তাদের মোবাইল ডিভাইস, কম্পিউটার এবং ডিজিটাল ক্লাসরুমের জন্যও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। এ চাহিদা মেটাতে সরকারকে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ রোধে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধে সফল না হওয়ার কথা অস্বীকার করেননি প্রধানমন্ত্রী। সত্য স্বীকার এবং বাস্তবতাকে মোকাবেলা করার পরিকল্পনা থাকে সুযোগ্য নেতৃত্বের। আন্তরিকতা অনেক বড় বিষয়। সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে ভুল যুক্তি দিয়ে দেশের সত্যিকার উন্নয়ন ঘটানো যায় না। দেশের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কের কাছে দেশবাসী এমন দৃঢ়তাই প্রত্যাশা করে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। স্পষ্ট ও দৃঢ় কণ্ঠে সদিচ্ছা প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী মানুষের প্রশংসা পাবেন অবশ্যই।