২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আগুনের ঝুঁকিতে সচিবালয়

উন্নয়নের অভিগামিতায় বাংলাদেশের সমৃদ্ধি নজরকাড়া হলেও দুর্যোগ আর বিপন্ন অবস্থাকে মোকাবেলা করেই চলছে রাজধানী ঢাকা। অবকাঠামোগত উন্নয়নের হরেক রকম চিত্র দৃশ্যমান হলেও বিপদসঙ্কুল পথও অতিক্রম করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অপরিকল্পিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবনের সুরম্য অট্টালিকাও নগরীকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে দিচ্ছে। এফআর টাওয়ার থেকে শুরু করে সুপার মার্কেট, পুরান ঢাকার আবাসিক ভবনে অগ্নিদুর্বিপাকে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সেদিনের ব্যাপার।

সম্প্রতি উঠে এসেছে আরও এক ভয়ঙ্কর তথ্য। প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মক্ষেত্র খোদ সচিবালয়ই নাকি প্রতি মুহূর্তে অগ্নিঝুঁকির কবলে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, চরম অগ্নি বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে সচিবালয় ভবনগুলো। মাটির নিচে জলাধারের ধারণ ক্ষমতা, অধিক লোকসংখ্যার ভার থেকে শুরু করে প্রবেশদ্বারের প্রশস্ততা, জরুরী নির্গমন সিঁড়ি, লিফট সবই নাকি ভয়ানক ঝুঁকির মুখে। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সুব্যবস্থার অভাব দুঃসহ পরিবেশকে আরও ভয়ঙ্কর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে শুধু উর্ধতন কর্মকর্তা-কর্মচারীই নন, সাধারণ দর্শনার্থী থেকে শুরু করে কাজের প্রয়োজনে আসা মানুষও বিপদকে সামনে রেখেই দৈনন্দিন কর্মপ্রণালী চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক ভবন সচিবালয়ের ১১টি ভবনের মধ্যে ১০টিই নাকি অগ্নিঝুঁকিতে দিন পার করছে। এর মধ্যে আবার পাঁচটি ভবনের অবস্থা এতই সঙ্গিন, যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার কবলে পড়লে বিস্ময়ের কিছু থাকবে না। নির্মাণ কৌশলে অপরিকল্পিত ত্রুটি বিচ্যুতি যে কোন দুর্বিপাকে উদ্ধার কাজও ব্যাহত করতে পারে। এসব অপরিকল্পিত, ত্রুটিপূর্ণ ভবনে আগুন লাগলে নির্মাণ কৌশলের অব্যবস্থাপনায় আগুন নেভানো খুব সহজ হবে না বলে উক্ত প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বৃহত্তর ঢাকা নগরীকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনায় পুরনো স্থাপনাগুলোর ওপর পর্যবেক্ষণ চালানোর পরামর্শ দেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার রাজধানীর সচিবালয়কে বিবেচনায় এনে তীক্ষ্ন নজরদারির আওতায় অভিযান চালানো হয়। এতে শুধু ভবনের বাহ্যিক দিকই নয়, ভেতরের অনেক অভ্যন্তরীণ সমস্যাও চিহ্নিত করা হয়। বৈদ্যুতিক সংযোগের মতো ভয়াবহ ব্যবস্থাপনাও সেই সনাতন আমলের কৌশল আর পদ্ধতিতে চলমান। গাফিলতির কারণে ভবনগুলো আজ দুর্দশাগ্রস্ত। বিশেষ করে ধারণ ক্ষমতার বাইরে দুর্বল বৈদ্যুতিক সংযোগের ওপর চাপানো হচ্ছে হাই ভোল্টেজের ফ্রিজ এবং এসির মতো আধুনিক সরঞ্জাম। ফলে বিপদের ঝুঁকিতে চলছে বিদ্যুত চালিত কার্যক্রম। এছাড়াও আছে ইলেকট্রিক কেটলি, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি। পুরনো বৈদ্যুতিক কেবলের ওপর নতুন নতুন এমন চাপে শর্ট সার্কিটে আগুন লাগতে পারে যে কোন সময়। সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার এসব বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ আর দুশ্চিন্তার কোন লক্ষণই একেবারে অনুপস্থিত। সঙ্গত কারণেই বিপর্যয় সামলানোর কোন প্রস্তুতি কিংবা প্রশিক্ষণও নেই বললেই চলে। তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানা যায়, ইতোমধ্যে দুর্যোগপূর্ণ ভবনগুলোর নবায়ন ও সংস্কারের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। গণপূর্ত, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বুয়েট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একযোগে কাজ করে বিদ্যমান ঝুঁকি ও আশঙ্কার ক্ষেত্রগুলোতে সময় উপযোগী নতুন মাত্রা দেবে বলেই প্রত্যাশা।