২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাটিং ও ফিল্ডিং ব্যর্থতায় হারল বাংলাদেশ

  • প্রথম টি২০তে পাকিস্তানের কাছে ৫ উইকেটে হার

মিথুন আশরাফ ॥ উইকেটে বোলারদের জন্য বিশেষ কিছু ছিল না। এরপরও বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা স্কোরবোর্ডে বড় স্কোর দাঁড় করাতে পারেননি। আর ফিল্ডিং তো যাচ্ছে তাই হয়েছে। রান আউট করার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন বাংলাদেশ ফিল্ডাররা। আর ক্যাচের সুযোগ নষ্ট করাতো আছেই। তাতে করে প্রথম টি২০তে হারল বাংলাদেশ। ৫ উইকেটে হার হলো। বোলিংটা ভাল হলেও ব্যাটিং আর ফিল্ডিং ব্যর্থতায় হার দেখতে হলো বাংলাদেশকে।

প্রথম টি২০ হারায় এখন সিরিজ হারের মুখেই পড়ে গেল বাংলাদেশ। যেখানে সিরিজ জয়ের আশা নিয়ে পাকিস্তান সফরে যায় বাংলাদেশ, সেখানে আজ দ্বিতীয় টি২০ অথবা সোমবার তৃতীয় ও শেষ টি২০ ম্যাচের মধ্যে যে কোন একটি ম্যাচ হারলেই বাংলাদেশের সিরিজ হার হয়ে যাবে। পাকিস্তান যে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে গেছে।

ব্যাটিংয়ে আর ১০-১৫ রান বেশি করলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত। বোলিংটা খুবই ভাল হয়েছে। তাইতো বাংলাদেশের করা ১৪১ রান টপকে জিততেই পাকিস্তানকে ১৯.৩ ওভার পর্যন্ত খেলতে হয়েছে। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে বাউন্ডারি না আটকাতে পারা, শোয়েব মালিকের রান আউট মিস, ক্যাচ মিস আর মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক্যাচ মিস, এমন সব ভুলে প্রথম টি২০তে কাত হয়েছে বাংলাদেশ। ফিল্ডারদের শারীরিক ভাষাও আসলে ইতিবাচক ছিল না। তাইতো ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেছেন, ‘ব্যাটিংয়ে আমরা ১০-১৫ রান কম করেছি। এরপরও ১৪০ রান নিয়ে যে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই করতে পেরেছি, এটা আমাদের বোলারদের কৃতিত্ব। বোলাররা ভাল বোলিং করলেও কিছু কিছু জায়গায় আমরা সহজ কিছু চার দিয়েছি। লেগ সাইডে আমরা ৬/৭ টার মতো চার দিয়েছি। এই জায়গাটায় যদি আমরা আরেকটু ভাল করতে পারতাম সঙ্গে যদি ফিল্ডিংটাও ভাল হতো তাহলে চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত। ফিল্ডিংয়ে আমরা বেশ কিছু রান-আউটের সুযোগ হাতছাড়া করেছি, ক্যাচ মিস করেছি। এগুলো না হলে ম্যাচটা অন্যরকম হতে পারত।’

লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা আগে ব্যাটিং করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। একটি হাফসেঞ্চুরির দেখাও মিলেনি। শুরুতে তামিম ইকবাল ও নাঈম শেখ মিলে যে ৭১ রানের জুটি গড়েন, সেটিই ৫০ রানোর্ধ জুটি হয়ে থাকে। এরপর দল আর ৭০ রান করতে পারে। ৭১ রানে যখন প্রথম উইকেট পড়ে, তখন ১১ ওভার ছিল। সেখান থেকে পরের ৯ ওভারে ৭০ রান করতে পারে বাংলাদেশ। তাতে করে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ১৪১ রান করে। টি২০তে শেষ ১০ ওভারেই বেশি রান হয়। টি২০তে শেষদিকে ঝড় তুলেন ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা তা করতে পারেননি। তবে পাকিস্তান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত নৈপুণ্য দেখিয়ে দলে সুযোগ পাওয়া অভিষিক্ত এহসান আলী সেই ভুল করেননি। তিনি ৩৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তিনি আউট হওয়ার পর একাধিকবার আউট হওয়া থেকে বাঁচা শোয়েব মালিক ৪৫ বলে ৫ চারে অপরাজিত ৫৮ রান করে পাকিস্তানকে জেতান। শ্রীলঙ্কার কাছে টানা তিন টি২০ ম্যাচ হারের পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম টি২০তে জিতে পাকিস্তান। ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯.৩ ওভারে ১৪২ রান করে ম্যাচ জিতে। মুস্তাফিজ ছাড়া ২ উইকেট নেয়া শফিউল, ১ উইকেট নেয়া আল আমিন, আমিনুলরা নিয়ন্ত্রিত বোলিংই করেছেন।

শুরুতে পাকিস্তানের বারোটা বাজে। ৩৫ রানেই দুই উইকেট হারায়। তখন মনে হয়, যদি আরেকটু ভাল বোলিং করা যায়, এই ভাল বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা রাখা যায়, তাহলে জেতাও অসম্ভব নয়। কিন্তু এহসান আলি ও শোয়েব মালিক মিলে দলকে ৮১ রানে নিয়ে যান। এমন সময় এহসান (৩৬) আউট হলেও মালিক অভিজ্ঞতার মান রাখেন। তিনি দলকে শেষপর্যন্ত টেনে নেন। তবে দলের ১২৫ রানে গিয়ে ৪৭ রান করা মালিক ক্যাচ আউট হওয়া থেকে বাঁচেন। পাকিস্তানের আরও দুটি উইকেট পড়ে। তবে শেষ ওভারে গিয়ে জিততে ৬ বলে ৫ রান লাগে। যে কোন দলের পক্ষেই জেতা সম্ভব। পাকিস্তানও ৩ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেয়। তবে ৪ বলে জিততে যখন ২ রানের দরকার থাকে তখন ৫ রানে অপরাজিত থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে আউট করার সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। ক্যাচ আউট হওয়া থেকে রিজওয়ানও বাঁচেন। ২০তম ওভারের তৃতীয় বলে ২ রান নিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মালিক ও রিজওয়ান।

তামিম (৩৯) মন্থর ব্যাটিং করার পরও যখন দলের ৭১ রানে আউট হয়ে যান, এরপর যে ব্যাটসম্যানই উইকেটে আসেন, তার ঝড়ো ব্যাটিং করার দরকার ছিল। কিন্তু দলের ৯৮ রান হতেই লিটন কুমার দাস (১২) ও সর্বোচ্চ রান করা নাঈম শেখ (৪৩) আউট হয়ে যান। এরপর আফিফ হোসেন ধ্রুব (৯), সৌম্য সরকার (৭) ব্যাট হাতে নেমে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। তাতে করে দল চাপে পড়ে যায়। শেষদিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (১৯*) ও মোহাম্মদ মিঠুন (৫*) দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। তাও পাকিস্তানকে ১৪২ রানের বেশি টার্গেট দেয়া যায়নি। টি২০তেও রানে সাকিব আল হাসানকে (১৫৬৭ রান) ছাড়িয়ে গিয়ে ১৫৯৫ রান করা তামিম আউটের পর লিটন, নাঈম যে ১৫তম ওভারে তৃতীয় ও চতুর্থ বলে আউট হয়ে যান, সেখানেই আসলে বাংলাদেশের বড় ক্ষতি হয়ে যায়।

পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ ৬ ওভারে ৩৫ রান করে। তামিম ফেরায় স্বাভাবিকভাবেই ওপেনিংয়ে একজনকে মিলে যায়। কিন্তু দ্বিতীয় জন কে? এই প্রশ্ন ছিল। কারণ, দলে মোট ছয় ওপেনার আছেন। শেষ পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখানো নাঈম শেখকেই ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী হিসেবে রাখা হয়। নাঈম সেই প্রতিদান দেনও। কিন্তু বাকিরা এমনই নিষ্প্রভ থাকেন, তাতে বড় স্কোর গড়া যায়নি। এমন স্কোরের পরও বোলাররা নিজেদের ঠিকই মেলে ধরেছেন। কিন্তু ফিল্ডাররাই ডুবিয়ে দিয়েছেন। শেষপর্যন্ত ব্যাটিং আর ফিল্ডিং ব্যর্থতাতেই হার হয়েছে বাংলাদেশের।