২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মনোহরদীতে স্ক্র্যাচ কার্ড দিয়ে পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা

মনোহরদীতে স্ক্র্যাচ কার্ড দিয়ে পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী ॥ নরসিংদীর মনোহরদীতে অভিনব কায়দায় গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের সাথে প্রতারণার খেলায় নেমেছে ঐশী মনি মার্কেটিং কনসেপ্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ এলাকায় ছয়জন বিক্রয়কর্মী সারাদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদেরকে ১শ টাকার লটারিতে আকর্ষণীয় পুরস্কার দেবার প্রলোভন দেখিয়ে স্ক্র্যাচ কার্ড বিক্রির করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত একমাস ধরে মনোহরদী উপজেলার উত্তরের জনপদ চালাকচর বাজারে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে এমন অভিনব প্রতারণার ফাঁদ খুলেছে জহিরুল ইসলাম লাভলু নামের এক ব্যক্তি। তিনি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার জয়পাশা গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে।

স্ক্র্যাচ কার্ড বিক্রির সময় পণ্য নেবার ক্ষেত্রে কোন ধরণের টাকা লাগবেনা বলে জানানো হলেও পুরস্কার পাবার পর এক হাজার ৬শ টাকা আদায় করে দেওয়া হচ্ছে এসব পুরস্কার।

ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্ক্র্যাচ কার্ড বিক্রয়কর্মীরা এলাকায় গিয়ে জানায় ১০০ টাকায় স্ক্র্যাচ কার্ড কিনে ঘষলেই পাওয়া যাবে দামি দামি পণ্য। লোভনীয় এই অফারে ক্রেতারা স্ক্র্যাচ কার্ড কিনে তা ঘষলে পণ্যের নাম ভেসে উঠ। পরবর্তীতে বিক্রয়কর্মীরা এই পণ্য চালাকচর বাজারে তাদের অফিস থেকে উত্তোলন করতে হবে বলে জানায়। সেখানে যাওয়ার পর অফিসের ম্যানেজার জানায় ১৬০০ টাকায় এই পণ্য নিতে হবে। তাছাড়া এসব পণ্য খুবই নিম্নমানের। অনেকেই স্ক্র্যাচকার্ড কেনার পর নিম্নমানের পণ্য দেখে ফেরত আসেন। ফলে স্ক্র্যাচ কার্ড বিক্রি করেই এই চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

স্ক্র্যাচ কার্ডের গায়ে এলইডি টিভি, সেলাই মেশিন, মোবাইল ফোন, ফ্রিজসহ দামি দামি ২১টি পণ্যের ছবি দেওয়া থাকলেও শুক্রবার চালাকচর বাজারে তাদের অফিসের ভিতরে গিয়ে এসব জিনিসের হদিস পাওয়া যায়নি। নিম্নমানের কিছু ক্রোকারিজ পণ্য, ফ্যান, ইলেকট্রিক চুলা এবং আয়রণ দেখতে পাওয়া যায়। তাছাড়া তাদের প্রচারপত্রে রাজধানী ঢাকার নবাবপুরে হেড অফিসের ঠিকানা লেখা থাকলেও খোঁজ নিয়ে সেখানে এই নামে কোন প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি।

চালাকচর গ্রামের মিয়া হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘আমার স্ত্রীর কাছ থেকে ১০০টাকা নিয়ে লটারি বলে একটা স্ক্র্যাচ কার্ড বিক্রি করে। সেটা ঘষার পর ইলেকট্রিক চুলা ভেসে উঠে। পরবর্তীতে তাদের অফিস থেকে পণ্য আনতে গেলে তারা জানান এই পণ্যের দাম ১৬০০টাকা। এই টাকা পরিশোধ করে তা নিতে হবে। পণ্যের মান ভালো না হওয়ায় আমার ১০০টাকা ফেরত চাইলে তারা দেয়নি।’

এই স্ক্র্যাচ কার্ড ব্যবসার বৈধ কোন কাগজপত্র এবং অনুমতি রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ঐশী মনি মার্কেটিং কনসেপ্টের ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম লাভলু বলেন, ‘আমাদের কোন প্রকার কাগজপত্র নেই। তবে সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। দুই মাসের জন্য চালাকচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মোস্তফা কামালের সাথে আলোচনা করে উনার দোকান ভাড়া নিয়েছি।’

চালাকচর বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম জানান, ‘স্ক্র্যাচ কার্ড দিয়ে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের সাথে এই চক্রটি প্রতারণা করে আসছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার লোকজন এই অফিসে এসে ঝগড়া করতে দেখা গেছে। এ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে বারবার কাগজপত্র দেখানোর কথা বলেও তারা দেননি। তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক।’

মনোহরদী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষদের মাঝে স্ক্র্যাচ কার্ড দিয়ে নিন্মমানের পণ্য বিক্রির বিষয়টি জানার পর সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে এই ব্যবসা বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানা নেই।’

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘স্ক্র্যাচ কার্ড দিয়ে ব্যবসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকলে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’