২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরিশালে ধর্ষিতার পুত্র সন্তান প্রসব

বরিশালে ধর্ষিতার পুত্র সন্তান প্রসব

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা লম্পট দুলাভাইয়ের লালসার শিকার ধর্ষিত কিশোরী (শালী) শেবাচিম হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী ও তার নবজাতক শেবাচিমে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাঁপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি মহল। শনিবার রাতে বিষয়টি মিডিয়া পাড়ায় ছড়িয়ে পরলে সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে প্রসূতি কিশোরীকে (১৭) এ বিষয়ে মুখ না খোলাসহ মামলা না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী। পুরো ঘটনাটি ধামাচাঁপা দিতে জেলা ছাত্রলীগের এক নেতার মাধ্যমে কয়েকজন সাংবাদকর্মীকে মোটা অংকের টাকাও দেয়া হয়েছে।

সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া গ্রামের এক দিনমজুরের কন্যা প্রসূতি কিশোরী জানায়, তার বড় বোনের স্বামী (দুলাভাই) চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ভেদুরিয়া গ্রামের ছালেম বয়াতী (৩৫) তাকে বিভিন্ন সময় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে তার বড় বোনকে ছেড়ে দেয়াসহ বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদর্শন করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রসূতি কিশোরীর স্বজনরা জানান, ধর্ষনের ঘটনাটি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য তার দুলাভাই ছালেম বয়াতী গত ২১ জানুয়ারি ধর্ষিতা কিশোরীকে সাহেবেরহাটের পল্লী চিকিৎসক জাকারিয়া হোসেনের সহায়তায় বরিশাল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকাশ পায় ধর্ষিতা কিশোরী ৩৪ সপ্তাহের গর্ভবতী। বিষয়টি জানাজানি হলে অন্তঃস্বত্তা কিশোরীকে তাৎক্ষনিক শেবাচিম হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ওইদিনই রাতেই ছালেমের ছোট শালী ওই কিশোরী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়।

সূত্রে আরও জানা গেছে, কিশোরী শালীকে ধর্ষন ও বাচ্চা প্রসবের ঘটনাটি ধামাচাঁপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ছাত্রলীগ নেতা সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ভাই আমার কোন দোষ নেই। আমি ঘটনাটি ধামাচাঁপা দিতে চাইনি। আমার কাছে ওই কিশোরীর দিনমজুর পিতা এসে বিষয়টি জানিয়েছেন। মেয়েটির পরিবার অনেক গরিব, এক ঘরেতো আর দুই বোনকে দেয়া যায়না তাই মানবতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আমি ঘটনাটি সমাধানের চেষ্টা করেছি। তিনি আরও বলেন, নবজাতককে প্রসূতি কিশোরীর দুলাভাই ছালেম বয়াতীকে দিয়ে দেয়া এবং ওই কিশোরীকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার সব খরচ ছালেম দিবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে পল্লী চিকিৎসক জাকারিয়া হোসেন বলেন, আমার কাছে ওই কিশোরীকে আনার পর তাকে দেখে সন্দেহ হলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে বলি। সেখানে পরীক্ষার পর জানা যায় ওই কিশোরী নয় মাসের অন্তসত্তা। পরে কিশোরীর অবস্থা আশংস্কাজনক হওয়ায় তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। বর্তমানে ওই কিশোরী ও তার নবজাতক বাচ্চা শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। ভূক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কেউ থানায় অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।