২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এভারকেয়ার নেটওয়ার্কে যুক্ত হল বাংলাদেশের এসটিএস হোল্ডিং লিমিটেড

এভারকেয়ার নেটওয়ার্কে যুক্ত হল বাংলাদেশের এসটিএস হোল্ডিং লিমিটেড

অনলাইন রিপোর্টার ॥ চিকিৎসা ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে বাংলাদেশের এসটিএস হোল্ডিং লিমিটেডের সাথে যুক্ত হলো এভারকেয়ার ও সিডিসি গ্রুপ। আজ রবিবার একটি চুক্তিপত্র ঘোষণার মাধ্যমে উভয়পক্ষ এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। চুক্তিপত্র অনুযায়ী, এভারকেয়ারের সহযোগীতায় এসটিএস রোগীদের তাৎক্ষনিক যেকোনো সেবা দিবে। আশা করা হচ্ছে, অধিগ্রহণ চুক্তিটির লেনদেনের অংশটি এই বছরের প্রথমার্ধেই সম্পন্ন হবে। এসটিএস হোল্ডিং লিমিটেড অধিগ্রহণে রাইজ ফান্ডের সহায়তাতয় এভারকেয়ার হেলথ ফান্ডের সাথে বিনিয়োগ করে সিডিসি গ্রুপ, যুক্তরাজ্যের ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টরস এবং ডেভিলপমেন্ট ফিন্যান্স ইন্সটিটিউট।

বাংলাদেশের রোগিদের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এসটিএস হোল্ডিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ঢাকায় ৩৭টি বিশেষায়িত বিভাগের ৪২৫ শয্যাবিশিষ্ট একটি মাল্টিডিসিপিনারি হাসপাতাল পরিচালনা করছে। এছাড়াও চট্টগ্রামে তাদের ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণাধীন রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় উন্নয়নে ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনালের (জিসিআই) স্বীকৃতি অর্জন করে এসটিএস হোল্ডিং লিমিটেড। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি আরো তিনবছর এই স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

এভারকেয়ারের সিওও অ্যান্ড্রু কারী বলেন, “এভারকেয়ার গ্রাহকদের ব্যয় কমিয়ে ও স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়িয়ে রোগীর অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে সর্বদা প্রš‘ত। এর নেটওয়ার্ক প্লাটফর্মে বাংলাদেশের শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এসটিএস যুক্ত হওয়ায় এভারকেয়ার পূর্ণতা পেয়েছে।”

এসটিএসের চেয়ারম্যান বব কুন্দানমাল বলেন, “রোগীদের স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করি। বাংলাদেশে আমাদের কাজের পরিধি বাড়াতে এভারকেয়ার ও সিডিসিকে নির্বাচন করা সঠিক হয়েছে। তারা আমাদের চিকিৎসা সেবার মডেল উন্নয়ন, বিশেষায়িত আধুনিক চিকিৎসাসেবা পরিচালনা ও বাংলাদেশের অপর্যাপ্ত সেবাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সকল প্রকার সহযোগীতা করবে।”

এভারকেয়ারের অংশ হিসেবে রোগীদের অত্যাধুনিক সেবা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে এসটিএস স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো শক্তিশালী করতে কাজ করে যাবে। এভারকেয়ার এসটিএসসের সাথে যুক্ত হওয়ায় এসটিএসকে আরো স্বাস্থ্যসেবার সহজতর করা তোলাসহ ক্লিনিক্যাল সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করতে হবে। এসটিএস চট্টগ্রামে তাদের নতুন হাসপাতালেও সেবার বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছে।

হেলথকেয়ার ইনভেস্টিং ফর দ্যা রাইজ ফান্ডের ম্যানেজিং পার্টনার ম্যাথিউ হোবার্ট বলেন, “বাংলাদেশসহ উদীয়মান বাজারগুলিতে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। ডায়াগনস্টিক, চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের অত্যাধুনিক সুবিধা, শিক্ষা ও গবেষণার অঙ্গীকার নিয়ে এসটিএস বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর জন্য ইতিবাচক। দেশের টেকসই স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে এসটিএসের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।”

এশিয়া সিডিসি গ্রুপের প্রধান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরিনি নাগারাজান বলেন, “মানুষের জীবন উন্নয়নে আমাদের মূলধন বিনিয়োগ সিডিসির মিশনের মূল লক্ষ্য। এশিয়ার স্বাস্থ্য পরিসেবায় আমাদের গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং এসটিএসের কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট টিম, টিপিজি এবং এভারকেয়ারের সাথে তাদের হাসপাতাল নেটওয়ার্ক বিস্তার ও রোগীদের সেবা জোরদার করতে কাজ করে যাচ্ছি।”

এসটিএস হোল্ডিং গ্রুপ, বাংলাদেশ সম্পর্কে:

বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র জেসিআই অনুমোদিত হাসপাতাল এসটিএস হোল্ডিং গ্রুপ। ১৬ কোটি মানুষের জন্য ৪২৫ শয্যাবিশিষ্ট মাল্টি ডিসিপ্লিনারি সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল এটি। অত্যাধুনিক হাসপাতাল, সার্জিকাল ও ডায়াগনস্টিক সুবিধাসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ নার্স এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এসটিএস হোল্ডিং লিমিটেড সেবা প্রদান করে থাকে।

এভারকেয়ার সর্ম্পকে:

এভারকেয়ার একটি স্বমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যারা আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়াসহ ভারত, পাকিস্তান, কেনিয়া এবং নাইজেরিয়ার উদীয়মান বাজারগুলোতে কাজ করে। আধুনিক টেকনোলোজি, রোগীদের হাসপাতালে দ্রুত পৌছানো, উন্নতমানের অপারেশনের মাধ্যমে মানসম্মত সেবা প্রদান করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এভারকেয়ার অধীনের রয়েছে ২৪টি হাসতাপাল, ১৮টি ক্লিনিক ও ৫৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এরমধ্যে একটি হাসপাতাল বর্তমানে নির্মাণাধীণ। এভারকেয়ারের পুরো মালিকানা এভারকেয়ার হেল্থ ফান্ডের।

সিডিসি সর্ম্পকে

দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবসায় ৭০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ যুক্তরাজ্যের প্রথম বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সিডিসি। উদীয়মান অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার দুইশটির বেশি ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। যার মোট মূল্য ৫.৮ বিলিয়ন পাউন্ড। এই বছর সিডিসি জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং লক্ষাধিক মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানিকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।