২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খেলাধুলায় সুনাগরিক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলাধুলার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে দেশের সুনাগরিক ও যোগ্য হওয়ার সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২০’-এর পুরস্কার বিতরণী সভায় এমন বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। টুর্নামেন্টের শেষের দিকে খেলা উপভোগ করে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনেছিলেন বলেই একটি মুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক সীমানায় অংশগ্রহণে সর্ববিধ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমান সরকার আধুনিক সময়ের বিস্তীর্ণ বলয়ে ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য খেলার যে নতুন জগত খুলে দিয়েছে তা সংশ্লিষ্টদের শুধু বিশ্ব মর্যাদাই নয়, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। মেয়েদের জন্য প্রাথমিক পর্যায় থেকে বঙ্গমাতা ফুটবল টর্নামেন্ট এবং ছেলেদের জন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ টর্নামেন্টের সমস্ত সুযোগ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিরাট আয়োজনকে সামনে রেখে ফুটবল টুর্নামেন্টের উৎসব আর আনন্দ সত্যিই এক মুগ্ধতার বিষয়। এতে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য কৃতিত্ব স্মরণ করা থেকে খেলোয়াড়দের নিজেদের সমৃদ্ধ হয়ে যথার্থ নাগরিকের মর্যাদায় আসীন হওয়া দেশের জন্য এক শুভযোগ।

খেলা বিনোদনের এক মাধ্যম। আর ফুটবল তো বাঙালীর ঐতিহ্যিক এক সাড়া জাগানো আবেগ। জনপ্রিয় এই খেলাটি সাধারণ ভক্তদের মাঝে প্রভূত আনন্দযোগের সহায়ক হয়। পাশাপাশি এমন উপভোগ্য খেলার ভেতর থেকে দেশপ্রেমের অন্তর্নিহিত বোধকে জাগিয়ে তুলতেও উদ্দীপকের ভূমিকায় নামে। বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ফুটবলের প্রতি যে আগ্রহ আর উদ্দীপনা সেটাই নতুন করে বর্তমান প্রজন্মকে নানা মাত্রিকে উদ্বুদ্ধ করছে। সঙ্গে দেশপ্রেমের অনির্বাণ শিখাও প্রজ্বলিত হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই বর্তমান সরকার খেলাধুলার প্রশস্ত আঙ্গিনাকে আরও বেশি জনবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগই আমলে নিতে কার্পণ্য করেনি। সে জায়গা থেকে সময়ের বলয়ে আরও আধুনিক কর্মকৌশল যুক্ত করে জনপ্রিয় ফুটবলকে গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে যেতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেই লক্ষ্যে কর্মোদ্দীপনা গ্রহণ ও পরিকল্পিত করা হচ্ছে। জয়-পরাজয়ের এমন টুর্নামেন্টকে সাদরে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি যোগ্যতমদের হাতে বিজয়ের সম্মান তুলে দেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল পাকিস্তানে টি-২০ খেলছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সিরিজ হারার কষ্টও পেতে হয় সফররত বাংলাদেশকে। অনিশ্চিত খেলার টুর্নামেন্টে হারজিতের আশঙ্কা ছাড়াও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিক ও দলীয় পারদর্শিতায় সিরিজের শেষ গন্তব্য নির্ধারণ করে। এক্ষেত্রে আরও ভাল করতে হবে টাইগারদের।

স্বাগতিক এবং সফররত উভয় দলই সেরা খেলাটা উপহার দিতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। ব্যাট-বলে সমান পারদর্শিতা দেখাতে ব্যর্থ হলে জয়ের সম্ভাবনা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। দুটি টি-২০ খেলায় টসে জিতে নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাটিংয়ে নামলেও শেষ অবধি খেলায় পরাজিত হলে হাতছাড়া হয়ে যায় সিরিজ। দেখার অপেক্ষা সফরের সর্বশেষ পরিণতি কি হয়। তারপরেও আমরা আমাদের ক্রিকেট ও ফুটবল নিয়ে অনেক আশাবাদী। জয়-পরাজয়কে আমলে নিয়ে সাধ্যমতো ভাল খেলাটা দিয়ে যেতে হবে। লড়াই করে হারলেও কিছু সান্ত¡না থাকে। বিদেশের মাটি আর ভিন্ন পরিবেশের দর্শক-স্রোতাদের আবেদন আর সমর্থনও খেলোয়াড়দের অনেক বেশি উজ্জীবিত করে। সেটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।