১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিশুর চর্মরোগ

শিশুর জন্মের পরপরই কয়েকটি চর্মরোগ হতে দেখা যায়। শিশুর ত্বক খুবই স্পর্শকাতর, তাই এই রোগগুলো সম্পর্কে সাম্যক ধারণা থাকলে এবং সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা হলে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তাই আপনার ছোট্ট শিশুর কয়েকটি চর্মরোগ নিয়ে একটু সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনা করা যাক।

ন্যাপকিন র‌্যাশ সব শিশুই বার বার প্রস্রাব করে। কখনও বিছানায় কখনও কোলে থাকা অবস্থায়ই করে বলে অনেক মাই বেশির ভাগ সময় ন্যাপকিন পরিয়ে রাখতে পছন্দ করেন। এই ন্যাপকিন পরানোর সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধাও আছে। সেটাও কিন্তু মায়েদের জানা প্রয়োজন। ন্যাপকিন প্রস্রাবে ভেজা মাত্রই পরিবর্তন করা প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘ সময় পরিয়ে রাখলে ওর মধ্যে জমে থাকা প্রস্রাবের ইউরিয়া ও পায়খানার জীবাণু মিলে এ্যালার্জি সৃষ্টি করে থাকে এবং লক্ষ্য করলে দেখবেন, ন্যাপকিন দ্বারা আচ্ছাদিত স্থানটুকুতেই এই র‌্যাশ হয়ে থাকে। যেমন উরুতে, উরুর ভাঁজযুক্ত স্থানে, কুচকি প্রভৃতি স্থানে। এই স্থানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কাপড়ে বা ন্যাপকিনে আচ্ছাদিত থাকলে এর পাশাপাশি এক ধরনের ছত্রাকেরও আক্রমণ ঘটে থাকে; যেমন ক্যানডিয়া। এ রকম ছত্রাকের আক্রমণ ঘটেছে ধারণা করলে কাপড় সাময়িকভাবে বর্জন করে স্থানটিকে সম্পূর্ণ শুষ্ক রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে আপনার ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। এই ক্যানডিডার আক্রমণ ত্বক থেকে মুখে জিহ্বায়ও ছড়িয়ে পড়তে পারে। জিহ্বায় এ ক্ষেত্রে সাদা সরের মতো আস্তরণ হতে দেখা যায়। শিশুরা এই ক্যানডিডা জাতীয় ছত্রাক দিয়ে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে গলার ভাঁজ থেকে শুরু করে পায়খানার রাস্তার আশপাশ কিংবা কুচকি পর্যন্ত যে কোন ভাঁজযুক্ত ত্বক আক্রান্ত হয়ে থাকে।

খোসপাঁচড়া বা স্ক্যাবিস

এই রোগটিতে অনেক শিশুই আক্রান্ত হয়ে থাকে অন্যের কারণে, যেমন ধরুন যে কোন এক ব্যক্তি যার শরীরে এমন চুলকানি আছে সে যদি না শিশুটিকে আদরের ছলে কোলে তুল নেয়, তবে ওই শিশুটি খুব সহজে আক্রান্ত হবে। কারণ এই রোগটি একটি জীবাণু সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। যার দেহে এই কীট জাতীয় জীবাণু যার নাম সারকপটিস সেবিয়াই আছে সে যদি একটি শিশুকে আদর করে কিংবা তার বিছানায় শোয় তাহলে এই রোগের সংক্রমণ খুব সহজে ঘটে থাকে। এ রোগে প্রথমে শিশুর শরীরে দারুণভাবে চুলকানি হতে দেখা যায়। তারপর একের পর এক পাঁচড়া হতে দেখা যায় এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে এর থেকে একজিমাও হতে দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, শুধু শিশুর চিকিৎসা হলেই রোগ সারানো যাবে না। শিশুর মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন অথবা যারা শিশুর পরিচর্যার দায়িত্বে নিয়োজিত তাদের সবারই একসঙ্গে চিকিৎসা নিতে হবে। নয়ত এই রোগ কিছুতেই সারিয়ে তোলা যাবে না।

ক্র্যাডেলক্যাপ

এটা নবজাতক শিশুদের মাথায় হতে দেখা যায়। এটা এক বিশেষ ধরনের খুশকিজাতীয় রোগ। বাদামি রঙের খোসার মতো মাথার চামড়ায় জমতে দেখা যায়। দেখতে তেলতেলে মনে হয় এবং কখনও কখনও বাজে এক ধরনের গন্ধ হতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে তেমন উদ্বিগ্ন হওয়ার সঙ্গত কোন কারণ নেই। কারণ, সাধারণত এই রোগ ছয় মাস বয়সের দিকে নিজ থেকেই ভাল হয়ে যায়।

মাসিপিসি

এটা সাধারণত সব শিশুরই জন্মের পর হতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জন্মের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় দিনে ফুটে ওঠে। এ ক্ষেত্রে শিশুর দেহে লাল লাল ভাব র‌্যাশের আকারে ফুটে ওঠে। সাধারণত মুখমণ্ডল, বক্ষপিঞ্জরের ত্বকসমূহ, হাত ও পায়ের অগ্রভাগের ত্বকসমূহে গুটি গুটি দানার আকারে বা র‌্যাশের আকারে ফুটে থাকে এবং সঙ্গে কোন রকম জ্বর বা অন্যরকম অসুস্থতা থাকে না। এবং সাধারণত দশম দিনে ভাল হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।

ডাঃ দিদারুল আহসান

চর্ম, এ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ

আল-রাজী হাসপাতাল, ১২-ফার্মগেট, ঢাকা। মোবাইল : ০১৭১৫৬১৬২০০।

নির্বাচিত সংবাদ