২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সহিংসতা কাম্য নয়

আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা যেমন জমে উঠেছে, পাশাপাশি পক্ষ-বিপক্ষ শক্তির প্রতিযোগিতামূলক স্লোগানে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে বিশৃঙ্খলারও সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচন মানেই সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ। সঙ্গে জনপ্রিতিনিধিদের সোচ্চার আবেদন, স্লেøাগানসহ প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। দলীয় প্রচারে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের পারস্পরিক আচারণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে বিভিন্নভাবে। তবে এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কারও বিরুদ্ধে আইনী বিধান না মানার অভিযোগকে আমলে নেয়নি। সঙ্গত কারণে কোন রকম ব্যবস্থা নেয়াও দৃশ্যমান হয়নি। তবে প্রচার তুঙ্গে এবং সাংঘর্ষিক ঘটনাপ্রবাহের চিত্রও গণমাধ্যমে স্থান পেতে সময় নিচ্ছে না। নির্বাচনের স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে বিরোধী দলের মতদ্বৈততারও কোন ঘাটতি নেই।

বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রচারণার সময় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত বিবদমান পরিবেশ দৃশ্যমান হলে তাতে আওয়ামী লীগের অনুসারীদের মাঝেও এর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ার খবর উঠে আসে। এতে দুই সাংবাদিকসহ ২ উভয়পক্ষের ২৬ সমর্থকের আহত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। এর আগে উত্তরের বিএনপি মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল নির্বাচনী প্রচারের সময় আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচার শেষ করে ইশরাক হোসেন দলীয় কর্মীদের নিয়ে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন। তবে বিএনপির সমর্থকরা উন্মত্ত স্লোগানে এগিয়ে যেতে যেতে এক সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও সেøাগান দেয়। ইশরাকের সঙ্গে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা বলতে থাকেÑ ‘লাগারে লাগা ধান লাগা’ এবং ‘ডুবারে ডুবা নৌকা ডুবা।’ ফলে আওয়ামী সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তেড়ে এলে চলে হাতাহাতি, মারামারির এক বিক্ষব্ধ পরিস্থিতি। ঘটনার টানপোড়েনে সাংঘর্ষিক অবস্থার দিকেও মোড় নিতে সময় লাগেনি। তবে পরিস্থিতি শান্ত হলে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন অন্য কারোর ইন্ধন আর উস্কানিতে এমন অবাঞ্ছিত ঘটনার অবতারণা করা হয়। নির্বাচন বানচাল করার দুরভিসন্ধিতেই এই ধরনের সংঘর্ষকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ নির্বাচনে সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছে না। এমন আপত্তি সব সময়ই করা হচ্ছে। মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিরোধী দলের বিধায় নিরাপত্তার অভাবও তাদের তাড়া করছে। তবে নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন সংঘর্ষের ব্যাপারে কোন কিছু বলতে পারছে না। কারণ অভিযোগ হিসেবে ঘটনাটি কমিশনের কাছে তখনও আসেনি। তবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ এলে অবশ্যই তা তদন্ত করা হবে। আর পুলিশ কমিশনার বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিএনপি নির্বাচনী প্রচার শুরু করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত হওয়ার সুযোগই পায়নি। তবে ভিডিও ফুটেজ দেখে বিএনপির ৫ কর্মীকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

জনগণের ভোটের অধিকারকে পুঁজি ও শক্তি বিবেচনায় নির্বাচনের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট সকলেরই কাম্য। একটি শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়া নির্বাচন কমিশনের সচেতন দায়বদ্ধতা। এর ব্যত্যয় ঘটলে পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে এমন দায় সকলের। নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকরাই শুধু নয়, সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেই একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে।