২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অর্থনৈতিক কূটনীতি

তিন বছর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতিমালা উপস্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, কূটনীতিকদের এখন নতুন নীতিতে কাজ করা উচিত। আমাদের কূটনৈতিক নীতি হলো সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। তবে রাজনৈতিক এই দর্শনের বাইরেও যেতে হবে। অর্থনৈতিক কূটনীতি নিয়ে কাজ করতে হবে। কিভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিবিড় ও জোরদার করা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে মিশনে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের। গত জুলাইয়ে লন্ডনে বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনেও বিষয়টির পুনরুল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের উত্তর দানকালে অর্থনৈতিক কূটনীতির বিষয়টি বিশদ তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সময়ের চাহিদা পূরণে পররাষ্ট্রনীতিতেও সংযোজন ও পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থনৈতিক কূটনীতি। ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক কূটনীতিই হবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের উন্নত দেশ বিনির্মাণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়টিও সুস্পষ্ট হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগ আহরণ, দক্ষ জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আর্থিক বুনিয়াদের ভিত্তি আরও মজবুত করার জন্য বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ বাড়ানোই এ কূটনীতির মূল লক্ষ্য।

অর্থনৈতিক কূটনীতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রথমত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সক্রিয়তা জরুরী। সরকার বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং ইতোমাধ্যে মুখ্য ভূমিকা পালন করার জন্য বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। আগামী তিন বছরে বাংলাদেশে কোন্ দেশ কী পরিমাণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে তার একটি রূপরেখা দিতে বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের নির্দেশনাটি গুরুত্বের সঙ্গেই দেখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। অর্থনৈতিক কূটনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হবে বিদেশে আমাদের দূতাবাসগুলো। কিন্তু পরিতাপের সঙ্গেই বলতে হয়, আমাদের দূতাবাসগুলোর পারফর্মেন্স আশানুরূপ নয়। প্রশ্ন উঠতে পারে, দূতাবাস ও মিশনগুলোর প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে তেমন কোন সফলতা কি দৃশ্যমান? ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশকে তুলে ধরে দেশের মর্যাদা বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো সাফল্য দেখাতে পারেনি বেশিরভাগ মিশনই। বিদেশে গণমাধ্যমগুলোতেও বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে তুলে ধরার কাজটি হয়নি সেভাবে। ফলে বিদেশী গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সেভাবে প্রস্ফুটিত হতে পারেনি কখনই। আরও অগ্রহণযোগ্য বিষয় হলো কূটনীতিকদের একটি বড় অংশের মধ্যেই শ্রমবাজার সম্পর্কিত দায়িত্ব পালনে অনীহা লক্ষ্য করা গেছে অতীতে। শ্রমবাজারের সঙ্কট দূর করা, নতুন শ্রমবাজার তৈরি, বন্ধ বাজার খোলাকে কূটনৈতিক সম্পর্কের দায়িত্বের মধ্যে নিতে হবে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী লক্ষ্য অর্জনে বড় ধরনের বিনিয়োগ দরকার। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি আহরণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য দূতাবাসগুলোর সক্রিয় উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে স্বপ্রণোদিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। অর্থনৈতিক কূটনীতির চর্চার জন্য সবার আগে চাই নিজ দেশ এবং কূটনৈতিক দায়িত্বের প্রতি আন্তরিক অঙ্গীকার ও দায়বদ্ধতা। কেন্দ্রীয়ভাবেও বিষয়টি মনিটর করাও আবশ্যক।