২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপির এমপির মুখে প্রধানমন্ত্রীর ভূয়শী প্রশংসা

বিএনপির এমপির মুখে প্রধানমন্ত্রীর ভূয়শী প্রশংসা

সংসদ রিপোর্টার ॥ জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বিএনপির হারুনুর রশীদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করেছেন। নিজ এলাকার হাসপাতালের সমস্যা সমাধান করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করবেন জানিয়ে বিএনপির এই এমপি বলেন, ’মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব লাভের পর টানা তিন মেয়াদে নিঃসন্দেহে দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পুরক প্রশ্ন করতে গিয়ে প্রথমেই বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ’আমি মনে করি, প্রকৃত বিরোধী দলের সদস্য হচ্ছে আমি।’ এ সময় বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

তিনি তাঁর নির্ধারিত যুবসমাজ সম্পর্কিত সম্পুরক প্রশ্ন না করে তাঁর নির্বাচনী এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর হাসপাতালের সমস্যা তুলে ধরেন। এ সময় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁকে সম্পুরক প্রশ্ন করতে বললে এমপি হারুন বলেন, ’আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করব। এ সময় সংসদ অধিবেশনে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভুয়শী প্রশংসা করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরপর তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী লাভের পর নিঃসন্দেহে দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। সমৃদ্ধি অর্জন করেছে- এতে কোন সন্দেহ নেই। বৃহত্তর অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতার জন্য আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। মন্ত্রী-এমপিরা প্রটোকল নিয়ে চলাফেরা করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানাবো- একটি টিম নিয়ে প্রটোকল ছাড়া ঢাকা শহরে একদিন চলাফেরা করেন। দেখুন কী অবস্থায় আমরা আছি, কী অবস্থা চলছে।

জবাব দিতে গিয়ে হাস্যেজ্বল কন্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’একটা কথা আছে- ধান ভাঙ্গতে শিবের গীত। মাননীয় সংসদ সদস্য সেই ধান ভাঙ্গতে শিবের গীত গেয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করতে গিয়ে যুব সমাজ থেকে স্বাস্থে চলে গেছেন। তবে স্বাস্থ্য সকল সুখের মুল। উনি একটা প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। তবে তাঁর প্রশ্ন থেকে আমি বুঝে গেছি, তা হলো উনার এলাকার হাসপাতালে জনবলের অভাব। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বলছি, এই সমস্যার সমাধান করতে।’

প্রটোকল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’আমি প্রটোকল নিয়ে চলি। নিরাপত্তা নিয়ে চলতে হয় এটাও যেমন ঠিক, আবার একেবারে এটাও ঠিক নয় যে, দেশের অবস্থা আমি জানি না। কারণ আমি সব দিকে নজর রাখার চেষ্টা করি। আবার যখন বেশি কাজ করি তখন প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রীকেই কেন সব কাজ করতে হবে? কেন দেখতে হবে? এটাও আবার শুনতে হয়। তবে আমি মনে করি, যেহেতু আমি দেশের দায়িত্ব নিয়েছি, তাই সব দিকে নজর দেয়াটা আমার দায়িত্ব। এটা আমার কর্তব্য।’