২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

করোনার প্রভাবে বেড়েছে রসুন ও আদার দাম

করোনার প্রভাবে বেড়েছে রসুন ও আদার দাম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চীনের করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। চীন থেকে আমদানিকৃত আদা, রসুন, পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি রসুনে ৪০-৫০ টাকা বেড়ে বর্তমান খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২১০ টাকায়। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি আমদানিকৃত আদা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। তবে চলতি সপ্তায় কিছুটা কেেমছে দেশী পেঁয়াজের দাম। চাল ও সয়াবিনের দামও নিম্নমুখী। বেড়েছে শীতের সবজির দাম। মাছ-মাংসের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, কাপ্তান বাজার, ফকিরাপুল বাজার এবং যাত্রাবাড়ি বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যেও দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চীনের করোরা ভাইরানের বিরূপ প্রভাবে দেশের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আদা ও রসুন চীন থেকে সরাসরি আমদানি করা হয়ে থাকে। এসব পণ্যের এলসিও এখন খোলা যাচ্ছে না। এসব কারণে বাজারে আদা ও রসুনের দাম বেড়ে যাচ্ছে। চীন থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিকেজি আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১১০ টাকায়। তবে নতুন ওঠা দেশী পেঁয়াজের দাম সামান্য কমে ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এ প্রসঙ্গে কাপ্তান বাজারের আদা ও রসুন বিক্রেতা শামিম হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, চীনের আদা ও রসুনের দাম বেড়ে গেছে। পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশী আদা ও রসুনের চাহিদা কম। চীনের বড় সাইজের রসুন ও বাদামী আদার আলাদা কদর রয়েছে ক্রেতাদেও কাছে। এসব কারণে এসব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

এদিকে, চীন থেকে আমদানিকৃত কোন পণ্যের দাম বাড়বে না বলে একদিন আগে জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। কিন্তু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়তির দিকে। আদা ও রসুনের পাশাপাশি চীনের অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়তি। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চীন থেকে আমদানি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবন না যদি না থাকে সবকিছুই অর্থহীন। এ কারণে ভোক্তাদের সাময়িক অসুবিধা হলেও বিষয়টি তাদের মেনে নিতে হবে। তবে আমদানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প বাজার খোঁজা হচ্ছে। ফ্রি ইকোনোমিতে যেকোন দেশ থেকে যেকোন সময় পণ্য এনে বাজার সামাল দেয়া সম্ভব। এ কারণে ভোগ্যপণ্য নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।

এদিকে, শীতের সবজির দাম বেড়ে গেছে এ সপ্তায়। কেজিতে পাঁচ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে সবজিভেদে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পটল, চিচিঙ্গা, বরবটি আর কাঁচা মরিচের দাম। একইসঙ্গে দাম বেড়েছে শাকের বাজারেও। তবে কমেছে সরু ও মাঝারি মানের চালের দাম। প্রতিকেজি সরু চাল ২ টাকা কমে ৫২-৬০ এবং মাঝারি মানের ৪৪-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। সয়াবিনও পামওয়েলের দাম কমেছে। প্রতিলিটার পামওয়েল ৮৮-৯২ এবং সয়াবিন খোলা ৮৮-৯২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এয়াড়া স্থিতিশীল রয়েছে মাছের বাজার। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা ও ৭৫০ গ্রাম ওজনের ৬০০ টাকা কেজি। এয়াড়া ছোট ইলিশ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাচকি ৩০০ টাকা, মলা ৩৫০ টাকা, ছোট পুটি (তাজা) ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি (গলদা) ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, বাগদা ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা, দেশি চিংড়ি ৩০০ থেজে ৪৫০ টাকা, রুই (আকারভেদে) ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, কৈ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কাতল ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি বয়লার ১৩০ টাকা, লেয়ার ২২০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৮০ টাকা ও সোনালি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, খাসি ৭৮০ টাকা ও বকরি ৭২০ টাকা কেজি দরে।