২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রন্থমেলায় প্রবাসী কবি কাজী জহিরুল ইসলামের একাধিক বই

গ্রন্থমেলায় প্রবাসী কবি কাজী জহিরুল ইসলামের একাধিক বই

অনলাইন ডেস্ক ॥ জাতীয় গ্রন্থমেলা ২০২০ এ প্রবাসী কবি কাজী জহিরুল ইসলামের ৫টি বই প্রকাশ হয়েছে। এর মধ্যে ‘কবিতা সমগ্র-৩’, প্রকাশক অগ্রদূত, স্কলার্স পাবলিশার্স প্রকাশ করেছে গদ্যসঙ্কলন ‘ঊত গদ্যবীজ’, তিউড়ি প্রকাশনির কবিতার বই ‘দেয়ালঘড়িটা কী মিথ্যুক’, বর্ণ প্রকাশ থেকে প্রেমের কবিতা সঙ্কলন ‘প্রেমের কবিতা’, শিশুতোষ গল্পের বই ‘জলের ঘড়ি’ প্রকাশ করেছে খণ্ডিত। কবি কাজী জহিরুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী মুক্তি জহির, পুত্র কাজী আবরার জহির এবং দুই কন্যা জল ও নভোকে নিয়ে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। এ পর্যন্ত তাঁর ৬৫টি গ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে, যার মধ্যে ২২টি কাব্যগ্রন্থ।

কাজী জহিরুল ইসলামের সম্পাদনায় আমাজনে প্রকাশ হয়েছে বাঙালী কবিদের ইংরেজী কবিতার এ্যান্থলজি ‘আন্ডার দ্য ব্লু রুফ’। ইতোমধ্যেই এর তিনটি ভলিউম বের হয়ে গেছে, যার প্রতিটির কলেবর প্রায় পাঁচ শ’ পৃষ্ঠা। তিন খণ্ডে দুই বাংলার ১০৮ জন কবির, প্রত্যেকের ৫ থেকে ১০টি করে কবিতা, সঙ্কলিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন ১০ ভলিউমে তিনি সাড়ে তিন শ’ বাঙালী কবির প্রায় ৩ হাজার কবিতা প্রকাশ করবেন। এটি বাংলা ভাষা ও কবিতার জন্য এক অসামান্য কাজ যা ইতোপূর্বে আর কোন বাঙালী করেননি। ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক এক অনুষ্ঠানে তাঁর এই কাজের প্রশংসা করে বলেন, আমি তাঁকে বিশেষভাবে আমার ভালবাসা জানাই কারণ তিনি বাংলা ভাষার কবিতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

ইউরোপ থেকে প্রকাশিত ‘পোয়েমস অব কাজী জহিরুল ইসলাম পাওয়ার অব ওয়ার্ডস’ নিউ ইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটিতে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে গৃহীত হয়েছে ২০১৮ সালে। তিনি বাংলা কবিতা থেকে ক্রিয়াপদ তুলে দিয়ে লিখেছেন নতুন ধরনের কবিতা। ‘ক্রিয়াপদহীন ক্রিয়াকলাপ’ নামে ক্রিয়াপদহীন কবিতার বইটি কলকাতা থেকে প্রকাশ হয় ২০১৫ সালে। ২০১৯ সালে বর্ধিত কলেবরে ঢাকা থেকে বের হয় ‘ক্রিয়াপদহীন কবিতা’। বইটির উড়িয়া অনুবাদ বের হয় ওড়িশার ভুবনেশ্বর থেকে। অনুবাদ করেন উড়িয়া কবি অজিত পাত্র। কোন বাংলাদেশী কবির এটিই প্রথম উড়িয়া ভাষায় অনূদিত গ্রন্থ। কবি কাজী জহিরুল ইসলাম অনূদিত কবিতার বই ‘জালালুদ্দিন রুমির কবিতা’ এবং ‘এজরা পাউন্ডের কবিতা’ ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে, ‘একালে কাকতলাতে বেল’, ‘রাস্তাটি ক্রমশ সরু হয়ে যাচ্ছে’, ‘সূর্যাস্তের পরের ফিরিস্তি’, ‘আকাশের স্ট্রিটে হাঁটে ডিজিটাল নারদ’, ‘বালিকাদের চাবিওয়ালা’, ‘উটপাখিদের গ্রামে উড়ালসভা’, ‘অন্ধকারে জিহ্বা নাড়ে পাপের গহ্বর’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত ভ্রমণ গ্রন্থগুলো দুই খন্ডে ‘ভ্রমণসমগ্র-১’ এবং ‘ভ্রমণসমগ্র-২’ শিরোনামে প্রকাশ হয়েছে ২০১৭ সালে। আমাদের ভাষা আন্দোলনের সাত ভাষা শহীদকে নিয়ে রচিত তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘উত্থান পর্বের গল্প’ একটি জাতীয় সম্পদ। তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তিকাল থেকে আজ অবধি কীভাবে সাহিত্যকে আশ্রয় করে আজকের বাংলা ভাষাটি গড়ে উঠেছে তার ধারাবাহিক বর্ণনা লিখেছেন গদ্যগ্রন্থ ‘শেকড়ের খোঁজ’-এ। এ ছাড়া তাঁর রাজনৈতিক উপন্যাস ‘থাবড়া হামিদ’ ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

এদিকে প্রবাসী কবি কাজী জহিরুল ইসলামের ৫৩তম জন্মদিন আজ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার খাগাতুয়া গ্রামের মাতুলালয়ে, ১৯৬৮ সালের আজকের দিনে জন্মগ্রহন করেন। শৈশব-কৈশোর পুরনো ঢাকায় কাটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর কাজী জহিরুল ইসলাম বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আয়কর বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত।

নির্বাচিত সংবাদ