২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুবাদের নিয়ে মাশরাফি-মুশফিকদের উচ্ছ্বাস

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে যাওয়ার আগে থেকেই সবার মনে একটি বিশ্বাস জন্ম নিয়েছিল যে এই দলটি শিরোপা জেতার যোগ্যতা রাখে। কারণ বিশ্বকাপের আগে ৩০টি যুব ওয়ানডে খেলেছে দলটি একসঙ্গে এবং সংঘবদ্ধ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ম্যাচই দেশের বাইরে খেলা দলটির জয়ের পাল্লাই ভারি। তবে শিরোপা আসেনি ইংল্যান্ডে হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে ও শ্রীলঙ্কায় হওয়া যুব এশিয়া কাপে। ফাইনালে গিয়ে হেরেছে আকবর আলীর দল। তবে বিশ্বকাপে গিয়ে আর আক্ষেপ সঙ্গী হয়নি, ৪ বারের শিরোপাধারী ও গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ দল। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ সাফল্য। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের পর আরেকটি শিরোপা যা সবচেয়ে দামী। কারণ এটি বিশ্বকাপ। তাই আকবর আলীদের নিয়ে উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজরা।

লো স্কোরিং ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ের পর অন্যতম ফেবারিট ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে পচেফস্ট্রুমে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ দল। এমন জয়ের পর দেশের ১৬ কোটি মানুষ রাতেই উৎসবে মেতেছেন। আকবরদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন অভিনন্দন জানিয়ে। দেশের ক্রিকেটের সেরা সাফল্য যুব ক্রিকেট দলের মাধ্যমে আসায় রাষ্ট্রপতি আব্দুর হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতাদের বাইরে সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেট তারকারাও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ছোটদের জয়ে বড়দেরও বার্তা দিয়েছেন, ‘একদিকে বড়দের বিপর্যস্ত অবস্থা, আরেকদিকে ছোটদের ইতিহাস গড়া জয়Ñ বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। পরিস্থিতির প্রতিকূলে গিয়ে ছোটদের পরিপক্ব ও আত্মবিশ্বাসে মাখা জয় দেখাটা দারুণ। দুর্দান্ত এই জয়ের জন্য অভিনন্দন।’ আর বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে যেতে পারেননি। তিনি যুবাদের এই সাফল্যের পর বলেছেন, ‘ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করে এগোনোর একটা ফল এই অর্জন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এটা যে কোন ধাপেই হোক, এর গৌরবই আলাদা। সবচেয়ে বড় কথা ভারতের মতো দলকে হারিয়ে আমরা জিতেছি। ওদের সঙ্গে আমার বিভিন্ন পর্যায়ে শুধু হারছিলাম। কাজেই সবচেয়ে ভাল লেগেছে আমরা এবার ভারতকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’

আকবর আলীদের অভিনন্দনে সিক্ত করেছেন সিনিয়র ক্রিকেটাররা। আকবরদের অভিনন্দন জানিয়েছে রাওয়ালপিন্ডিতে থাকা টেস্ট দলের সদস্যরাও। টেস্টের তৃতীয়দিনের খেলা শেষ করে তারা নজর রেখেছিলেন টিভি পর্দায়। টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক বলেন, ‘যে কাজটা সাকিব-তামিম-মুশফিক ভাই এমনকি আমরাও পারিনি, বাংলাদেশ ক্রিকেটে যা আগে কখনও হয়নি, তারা সেটা করে দেখিয়েছে। অনেকটা ভারমুক্ত মনে হচ্ছে এখন। শিরোপা জয়ীদের তালিকায় এখন থেকে থাকবে বাংলাদেশেরও নাম। আকবর তোমাদের অনেক অনেক অভিনন্দন আর অসংখ্য ধন্যবাদ, দেশের পতাকা তোমরা এত বড় মঞ্চে উড়িয়েছ। তোমরা ইতিহাস গড়ে পুরো জাতিকে গর্বিত করেছ।’ বাঁহাতি ওপেনার তামিম টুইটারে বলেন, ‘২০২০ আইসিসি অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ জেতায় বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ দলকে হৃদয়ের গভীর থেকে জানাই অভিনন্দন। তোমরা পুরো দেশকে গর্বিত করেছ।’ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ লিখেছেন, ‘কী দারুণ মুহূর্ত! বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। গর্বিত আমি। আন্তরিক অভিনন্দন বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ দলকে।’ নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানে যাননি মুশফিক। পুরো ম্যাচটি টিভির সামনে বসে দেখেছেন। ম্যাচ জেতার পর ভিডিও পোস্ট করে ফেসবুক পেজে সবার আগে যুবাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটার হওয়া। এই ছেলেরা আমাকে অনেক বেশি গর্বিত করেছে। অভিনন্দন সুপারস্টার।’

মাঠে নামার আগেই ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি ফাইনালে চাপমুক্ত হয়ে খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন যুবাদের। সেটা আকবররা কাজে লাগিয়েছে। বিশ্বজয়ী দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মাশরাফি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এই অনুভূতি অন্যরকম। অভিনন্দন পুরো দলকে, কোচিং স্টাফ, সিলেক্টর, বিসিবি এবং পুরো দেশবাসীকে। সাবাশ বাংলাদেশ। বিশেষ করে অভিষেক দাস, রাকিবুল, শরিফুল, ইমন (পারভেজ) এবং অন্য সব খেলোয়াড় ও কোচিং দলের সদস্যদের। আকবর ইউ বিউটি। শুধু আবেগটা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় সেটা শেখো। কী অসাধারণ অর্জন! বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য কী দারুণ এক মুহূর্ত!’ আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় বর্তমানে সবধরনের ক্রিকেট থেকে দূরে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব। তিনিও ভোলেননি উত্তরসূরিদের অভিনন্দন জানাতে। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাঘের বাচ্চারা করে দেখিয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা জিতে নিয়েছে তারা ভারতের যুবাদের ৩ উইকেটে হারিয়ে।’ জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদও উচ্ছ্বসিত, ‘আলহামদুলিল্লাহ। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। আজীবনের জন্য গর্বের মুহূর্ত।’ এ অর্জনকে অন্য মাত্রার বললেন সাব্বির রহমান রুম্মান, ‘আলহামদুলিল্লাহ। তোমাদের নিয়ে গর্বিত আমরা। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, আমাদের জন্য গর্ব করার মতো একটা মুহূর্ত। আজীবনের অর্জন।’ সৌম্য সরকার সংক্ষিপ্ত পোস্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান লিটন দাসও সংক্ষেপে লিখেছেন, ‘অভিনন্দন, ছেলেরা।’ আকবর আলী-তৌহিদ হৃদয়-রাকিবুল হাসান-পারভেজ হোসেনদের বিশ্বজয়ী এই দলের আগে অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ছিল নিজ মাটিতে ২০১৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা। অনুজদের বিশ্বজয়ের আনন্দে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পাশে ‘চ্যাম্পিয়ন’ লেখা ছবি দিয়ে সেবারের অধিনায়ক মিরাজ লিখেছেন, ‘আমাদের ছেলেরা করে দেখিয়েছে। অভিনন্দন বাংলাদেশ।’ ২০১৬ যুব বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও বিশ্বজয়ের মুহূর্তের ভিডিও দিয়ে লিখেছেন, ‘ইয়েস! আমরা করে দেখিয়েছি। বাংলাদেশের তরুণ বাঘেদের অভিনন্দন। আমরা এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।’