২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রশংসনীয় প্রস্তুতি

বিশ্বব্যাপী নতুন আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। প্রধানত তীব্র নিউমোনিয়ার লক্ষণসদৃশ শ্বাসকষ্টজনিত এই ব্যাধিতে মৃত্যুঝুঁকি ভয়াবহ। চীনে এই নতুন ভাইরাসটির প্রথম সংক্রমণ ঘটে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তীব্র মহামারীর আকারে। করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ইতোমধ্যে সে দেশে কয়েক হাজার ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে বহির্বিশ্বে। অবশ্য চীন সরকার বলেছে, মৃত্যু হয়েছে কয়েক শ’ আক্রান্তের। তবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও সংক্রমণ এড়াতে ইতোমধ্যে চীনের কয়েকটি শহর ও গ্রাম প্রায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে সেসব স্থানের অধিবাসীরা পড়েছেন সমূহ সঙ্কটে। যাদের মধ্যে আছেন অনেক বাংলাদেশী, ভারতীয়, মার্কিন ও অন্যান্য দেশের নাগরিক। এর মধ্যে অবশ্য মার্কিন ও ভারত সরকার বিশেষ বিমানে করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে তাদের নাগরিকদের। দেশে এনে কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে তাদের। বাংলাদেশ সরকারও প্রস্তুত বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার জন্য। ইতোমধ্যে আনা হয়েছে অনেককে। তবে প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থা ও নিরাপত্তার কারণে এখনই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। আশার কথা এই যে, সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রস্তুত ও সতর্ক। এ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। দেশের বিমানবন্দর ও স্থল সীমান্তপথে গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। আগত সব যাত্রী ও পর্যটককে সর্বাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী দ্বারা নিয়মিত পরীক্ষা করে তবেই প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। যেটা প্রভূত আশাব্যঞ্জক বললেও অত্যুক্তি হবে না। করোনা ভাইরাসজনিত আতঙ্কে আন্তর্জাতিক ব্যবসাবাণিজ্যসহ দেশের আমদানি-রফতানিতেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। যে কারণে নতুন করে বেড়েছে পেঁয়াজ-রসুন-আদার দাম। আপাতত স্বস্তির কথা এই যে, করোনা ভাইরাসজনিত ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি দেশের তালিকায় নাম নেই বাংলাদেশের। অবশ্য সিঙ্গাপুরে একজন বাংলাদেশী আক্রান্তের খবর আছে। আর সে জন্যই সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে বাংলাদেশকে। ইতোমধ্যে এর প্রতিষেধকও আবিষ্কৃত হয়েছে বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। তবে মানুষের ক্ষেত্রে তার সফল প্রয়োগের উদাহরণ নেই এখন পর্যন্ত।

ইতোপূর্বে সারাবিশ্বে একটি বহুল আলোচিত নাম ছিল জিকা ভাইরাস। সর্বপ্রথম ব্রাজিল ও লাতিন আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে জিকা ভাইরাস। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে আফ্রিকা ও অন্যত্র। ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে জিকা ভাইরাসবাহিত রোগী সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত না হলেও বিশ্বায়নের যুগে যে কোন মুহূর্তে তা সম্ভব হতে পারে। তদুপরি জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এডিস মশার মাধ্যমে, যে প্রজাতির মশা এ দেশেও সহজলভ্য। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটে কিনা যানা যায়নি।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ইতোমধ্যেই জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। এ অবস্থায় বাংলাদেশেও ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো অত্যাবশ্যক। বর্তমান বিশ্ব একটি অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে। যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি, মারামারি, রক্তারক্তি বিশ্বের কোথাও না কোথাও লেগেই আছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খরা, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, ভূমিকম্পসহ অপুষ্টি ও অনাহারও কম নয়। এর পাশাপাশি বাড়তি উপদ্রব নিত্যনতুন রোগব্যাধি, করোনা ভাইরাস, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, এইচআইভি-এইডস, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু, এ্যানথ্রাক্স, ইবোলা ভাইরাস, জিকা ভাইরাস ইত্যাদি। পুরনো ওষুধবিষুধ, এ্যান্টিবায়োটিক ও প্রতিষেধক বাতিল হয়ে যাচ্ছে। সে অবস্থায় নতুন রোগব্যাধির বিরুদ্ধে নতুন প্রতিষেধক আবিষ্কার এখন সময়ের দাবি।

নির্বাচিত সংবাদ