২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হেলথ এক্সপো

ট্রাডিশনাল হেলথ কেয়ার একটি জনপ্রিয় স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সেবায় নিয়োজিত এমন চিকিৎসা পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিয়ে এর বৈজ্ঞানিক ও আধুনিকায়নে নতুন সম্ভাবনাকে জোরালো করতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে যে, এই অঞ্চলের প্রায় ৯০% মানুষ এই স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে থাকে। এক্সপো-২০২০ ভারতীয় চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) ও বাংলাদেশ আয়ুর্বেদ ফাউন্ডেশন (বিএএফ) যৌথভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় শুরু হয়েছে এই আয়োজন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে এই মহৎ উদ্যোগের উদ্বোধন করেন। বিমসটেক সদস্যভুক্ত দেশগুলো ১৪টি খাত নিয়ে কাজ করে। তার মধ্যে ট্রাডিশনাল হেলথ কেয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। গতানুগতিক এই স্বাস্থ্যসেবাটি শুধু রোগ উপশমেই কার্যকর নয়, এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও সমধিক। ইউএনডিপি প্রচারিত টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় স্বাস্থ্য খাতে মানুষের সামগ্রিক সেবাদানকে আরও সম্প্রসারিত করতে নতুন নতুন কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় এক্সপোর এই আয়োজন। সারা বিশ্বে বহুল প্রচলিত এই চিকিৎসা পদ্ধতি আবারও নতুন ধারণায় সাধারণ মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে কাজ করছে। ফলে এখন ভেষজ এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসা পদ্ধতি আলোড়নও তুলছে ব্যাপকভাবে।

স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে আজ নজরকাড়া। শিশুমৃত্যু রোধ থেকে আরম্ভ করে তাদের একটা পর্যায় পর্যন্ত সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বিশ্বব্যাপী আলোচিত। বাংলাদেশে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ওষুধের উৎপাদন করা হয়। নিজ দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে বাইরেও রফতানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। আর ট্রাডিশনাল মেডিসিনে আয়ুর্বেদ, হারবাল ও ভেষজ চিকিৎসা পণ্যের ১২শ’ কোটি টাকার বাজার রয়েছে দেশে। বিমসটেক এসব পণ্যের ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।

এই ধরনের ওষুধগুলো বৈজ্ঞানিক ওষুধের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম দামের। ফলে সাধারণ মানুষের আগ্রহও থাকে এই ভেষজ চিকিৎসা পদ্ধতিতে। শুধু তাই নয়, প্রকৃতির অবারিত সম্পদ থেকে তৈরি এসব চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতাও অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এই এক্সপোতে বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও অন্য দেশের ভেষজ পণ্য প্রদর্শন হবে। ফলে এই চিকিৎসাসেবার ব্যাপক সম্প্রসারণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমানায় বাণিজ্যিকীকরণেও সুযোগ তৈরি হবে।

এক্সপোতে ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় ৪০টি স্টল বরাদ্দ থাকছে। এই চিকিৎসা পদ্ধতির গবেষক-বিশ্লেষক, প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তারাও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এত বড় আয়োজনকে তার লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এতে নতুন গবেষণা ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক কর্মধারা যুক্ত করে চিরায়ত চিকিৎসা পদ্ধতিকে নতুন মাত্রা দেয়াও এই আয়োজনের লক্ষ্য। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই চিকিৎসাসেবার সর্বজনীন কর্মদ্যোতনাকে উল্লেখ করে জনগণের মাঝে এর বহুল সম্প্রসারণ প্রত্যাশা করেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অধিক সচেতনতা বাড়াতেও এই এক্সপো-২০২০ গুরুত্ব অপরিসীম। স্বল্প খরচের এই সেবাদান কর্মসূচীকে সাধারণ মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেয়াও এর অন্যতম লক্ষ্য।