১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০

জয়নুলে চলছে নবম কিবরিয়া আন্তর্জাতিক ছাপচিত্র মেলা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চারুকলার ছাপচিত্রের শিক্ষার্থী ও এ মাধ্যমে কাজ করা শিল্পীদের আঁকা ছবি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় চলছে নবম কিবরিয়া আন্তর্জাতিক ছাপচিত্র মেলা। কিবরিয়া ছাপচিত্র স্টুডিও আয়োজিত এ মেলায় কিছুটা সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যাচ্ছে ছাপচিত্র যা ঘর সাজানোর জন্য খুবই সহজলভ্য।

জয়নুল গ্যালারিতে শুরু হয়েছে এ মেলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন সংসদসদস্য সংস্কৃতিজন আসাদুজ্জামান নূর। শিল্পী আবুল বারক আলভীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম ও শিল্পপতি তানিম উদ দৌলা।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এখনকার চারুকলা মানে আর্ট কলেজের হোস্টেলে আমার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোর পোস্টার আমরা সে সময় হাতে লিখতাম। আন্দোলন সংগ্রামের অনেক ইতিহাস আছে এই চারুকলা ঘিরে। কিবরিয়া স্যার হোস্টেলের ওপর থেকে নেমে এসে বলতেন হইচই কোরো না। কিন্তু আমাদের প্রতি তার সমর্থন ছিল। মনিরুল ইসলাম বলেন, ছাপচিত্রকে অনেকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এর পেছনে শ্রম অনেক। আমি ৪০ বছর ধরে এই মাধ্যমে কাজ করেছি। এর ভাষা একেবারেই আলাদা। বিদেশের প্রদর্শনীতে গিয়ে বাংলাদেশের শিল্পীদের ছাপচিত্র দেখে গর্ববোধ করেছি।

রফিকুন নবী বলেন, ছাপচিত্রকে গ্রহণ করার রুচি সবার ভেতরে আসছে না। সফিউদ্দিন স্যার আমাদের কাঠের ওপরে কাজ করাতেন। কাজগুলো ভীষণ কষ্টকর ছিল। ছাত্রজীবন শেষে বিদেশে লেখাপড়া করতে গিয়ে নিজের ঘাড়ে তুলে নিলাম সেই কাজ। বিদেশে গিয়ে দেখলাম অনেক সুন্দর কাজ হয় এ মাধ্যমে। ঢাকায় ছাপচিত্রের জন্য এখন অনেক স্টুডিও হয়েছে। আগে চারুকলা ছাড়া আর কোথাও এ কাজ করা যেত না। এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাপার যন্ত্র আছে। আমি নিশ্চিত একটা সময় বিদেশের মতো এখানেও এই মিডিয়া জনপ্রিয় হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন। তিনি বলেন, অনেক দূর-দূরান্ত থেকে এ মেলায় যারা আসেন, অনেক সময়ই তাদের যাওয়া-আসার টাকাও ওঠে না। সময় ও অর্থের অপচয় করে যারা এ মেলায় যোগ দিচ্ছেন, তারা আসলে শিল্পীর দায় থেকে আসেন।

আবুল বারাক আলভী বলেন, প্রিন্ট নিয়ে যারা কাজ করতে চান, তাদের কথা ভেবেই কিবরিয়া ছাপচিত্র স্টুডিও শুরু করা হয়। দলবেঁধে যারা ছাপচিত্র নিয়ে কাজ করেন, তাদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এই মেলা। অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা জানানো হয় ছাপচিত্রী এ কে এম আলমগীর হককে। তার হাতে তুলে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক ও অর্থমূল্যের চেক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিল্পী রশিদ আমিন। মেলা চলবে আজ শনিবার পর্যন্ত এবং খোলা থাকবে ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।