২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তাপসের আসনে মনোনয়ন ফরম কিনলেন সাঈদ খোকন

  • বোর্ডের সিদ্ধান্ত আজ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে শূন্য ঘোষিত পাঁচ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৭৮ জন। তারা দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন ফরম সংগ্রহ করে জমাও দিয়েছেন। শুক্রবার ছিল এসব নির্বাচনে দলের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিক্রি ও জমা দেয়ার শেষদিন। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে এ কার্যক্রম। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার বাসভবন গণভবনে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাতকার নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। জানা গেছে, পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদনপত্র বিক্রি হয়েছে গাইবান্ধা-৩ আসনে। এ আসনে ২৫ জন মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র কিনে জমা দিয়েছেন। এছাড়া বগুড়া-১ আসনের জন্য ১৯ জন, যশোর-৬ আসনে ১৩ জন, বাগেরহাট-৪ আসনে ১১ জন এবং ঢাকা-১০ আসনে ১০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র ক্রয় করে জমা দেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র কিনে জমা দিয়েছেন ২০ জন। আর কাউন্সিলর পদে দলের সমর্থনের জন্য আবেদনপত্র কিনে জমা দিয়েছেন ৪০৫ জন। চট্টগ্রামে সিটি নির্বাচনে মোট ওয়ার্ড ৪১ এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড ১৪টি।

ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে তার পক্ষে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য আবুল কালাম আজাদ।

গাইবান্ধা-৩ ॥ পাঁচ সংসদীয় আসন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কিনেছেন তারা হলেনÑ গাইবান্ধা-৩ আসনে উম্মে কুলসুম স্মৃতি, শাহ মোঃ ইয়াকুব উল আজাদ, মোঃ মাহমুদুল হক, এ কে এম মোকছুদ চৌধুরী, মোঃ মফিজুল হক সরকার, মোঃ ফজলুল করিম, মোঃ ওমর ফারুখ, মোঃ আজিজার রহমান খান বিএসসি, গোপাল চন্দ্র বর্মন, মোছাঃ রেহেনা বেগম, তামান্না শারমিন, তোফাজ্জল হোসেন, এম এস রহমান, আবু বক্কার প্রধান, শাহারিয়া খান, জরিদুল হক, আমিনুল ইসলাম, মোঃ সাদ্দাম হোসেন, মাজেদার রহমান দুলু, নুরুল ইসলাম প্রধান, দিলারা খন্দকার, শাহাদত রাজা, মতিয়ার রহমান এবং মোঃ সাঈদ রেজা।

বাগেরহাট-৪ ॥ বাগেরহাট-৪ আসনে মিজানুর রহমান জনি, মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুর রহিম খান, এ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন, প্রবীর রন্জন হালদার, নকিব নাজিব, ইসমত আরা শিরিন চৌধুরী, মোশারফ হোসেন, এসএম রাজু, মোঃ জামিল হোসাইন, বদিউজ্জামন সোহাগ এবং এসএম মনিরুল ইসলাম।

যশোর-৬ ॥ যশোর-৬ আসনে শেখ আব্দুর রফিক, শাহীন চাকলাদার, মোঃ আব্দুল মান্নান, এইচএম আমির হোসেন, ওয়াহিদ সাদিক, নওরিন সাদিক, তাপস কুমার দাস, হোসাইন মোহাম্মদ ইসলাম, শ্যামল সরকার, শেখ আব্দুল ওহাব, মোঃ কামরুজ্জামান (আইনজীবী), তানভীর আহম্মেদ বিপু এবং জয়দেব নন্দী।

ঢাকা-১০ ॥ ঢাকা-১০ আসনে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, মোঃ সাঈদ খোকন মেজর ইয়াদ আলী ফকির, এ্যাডভোকেট মোঃ বশির, আদম তমিজী হক, ড. আব্দুল ওয়াদুদ, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, মোঃ কুদ্দুসুর রহমান, এ এস এম কামরুল আহসান ও কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল।

বগুড়া -১ ॥ বগুড়া-১ আসনে ম. আব্দুর রাজ্জাক, মোজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, জাহাঙ্গীর আলম, জিয়াউর রহমান শেখ, ড. সিদ্দিকুর রহমান, ডাঃ মোঃ মকবুলুর রহমান, সাহাদারা মান্নান, রেজাউল করিম মন্টু (জেলা সদস্য), এসএম খাবীরুজ্জামান, মোঃ জাকির হোসেন, মোঃ ছালের উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল করিম মন্টু (উপজেলা সদস্য), মোনতাজুর রহমান মন্টু, শাহজাহান আলী, আলমগীর শাহী (পৌর মেয়র), মোঃ আছালত জামান, আনছার আলী এবং এ্যাডভোকেট ফজলুল হক সবুজ।

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আ জ ম নাছির উদ্দিন, রেজাউল করিম চৌধুরী, খোরশেদ আলম, মুজিবর রহমান, নুরুল ইসলাম বিএসসি, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আব্দুস সালাম, মেজর (অব.) ইমদাদুল ইসলাম, মোঃ ইনসান আলী, মোহাম্মাদ ইউনুস, মোঃ হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, সেলিনা খান, মোঃ মনজুর আলম (সাবেক মেয়র), রেখা আলম, এ কে এম বেলায়েত হোসেন, মোঃ মাহাবুবুল আলম, এরশাদুল আমিন, মোঃ মনোয়ার হোসেন, দীপক কুমার পালিত। ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছিরের কাছেই হেরেছিলেন সেই সময়কার বিএনপি নেতা এম মনজুর আলম। সেবার ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে ২০১০ সালের নির্বাচনে ৪ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়ে নিজের রাজনৈতিক গুরু এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় ৯৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র হয়েছিলেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর। তার আগে মনজুর আলম তিন দফায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে বিভিন্ন সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়রেরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ইউনুস আলী সরকার মারা গেলে গাইবান্ধা-৩ আসনটি শূন্য হয়। গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীর বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। গত ১৮ জানুয়ারি আবদুল মান্নান মারা যাওয়ায় বগুড়া-১ আসনটি শূন্য হয়। টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আবদুল মান্নান। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর গত ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এর পর এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন শেখ ফজলে নূর তাপস। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল।