২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ হাসিনা দেশকে স্বপ্নের দেশে পরিণত করতে এসেছেন ॥ কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল, ১৪ ফেব্রুয়ারি ॥ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র উপহার দেয়ার পর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। তিনি সেটা করে যেতে পারেননি। তার কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সেই স্বপ্নের দেশে পরিণত করতে এগিয়ে যাচ্ছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়াই হবে মুজিববর্ষের অঙ্গীকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রে দেশের অভূত ঈর্ষণীয় উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়নে বড় বাধা বিরোধী পক্ষ বিএনপি ও জামায়াত। তারা বিগত ২০১৩-১৪ সালের নয় মাস জ্বালাও-পোড়াও করে। নিরপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে মেরে নির্বাচিত সরকার পতনের আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। আল্লাহর হুকুম ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন কেউ করাতে পারবে না।

শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার ৮ম ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন রাজনীতির ভাষা ছেড়ে পথ হারিয়ে নিম্নস্তরের মানুষের মতো কথা বলছেন। তার বক্তব্যে শুধু রাজনীতিবিদ নন, সারাদেশের মানুষ লজ্জিত। লাথি মেরে সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো এটা রাজনীতিবিদের ভাষা নয়, রাস্তার মানুষের ভাষা। আওয়ামী লীগ জনগণের দল, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল। এই দলকে ক্ষমতা হতে নামানোর ক্ষমতা বিএনপি-জামায়াতের নেই। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবেন ক্ষমতায় কাকে বসাবেন আর কাকে নামাবেন।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা তখনই প্রকৃত শিক্ষা হয়ে ওঠে যখন তা মানব উন্নয়নে ভূমিকা রাখে এবং যুগোপযোগী হয়ে ওঠে। সমৃদ্ধ ও উন্নত আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। রূপকল্প ২০২১ বা জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জনসম্পদ উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এখন মানসম্মত শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। শিক্ষক হচ্ছেন সমাজের আলোকিত মানুষ, সমাজের সম্মানিত মানুষ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের আলো ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তাদের দেশপ্রেমিক মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ন্যায়পরায়নতা যেন তাদের মধ্যে থাকে এই শিক্ষা দিতে হবে এবং শিক্ষার মান বাড়াতে সবাইকে কঠোর হতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াতে শিক্ষকদেরও বেশি বেশি পড়তে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মানসম্মত শিক্ষার ব্যাপারে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে হলে গুণগত মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা জরুরী। তবেই আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের দরবারে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে। পরিমাণ নয়, মানই গুরুত্বপূর্ণ। জিপিএ আসল কথা নয়, শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে কোন ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণই আসল কথা। কারণ আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে উন্নত বাংলাদেশের হাল ধরবে। সেই ভবিষ্যত বিনির্মাণ গভীর সুবিবেচনাপ্রসূত হওয়াই কাক্সিক্ষত লক্ষ্য। কৃষিমন্ত্রী বলেন, মানব তখনই মানবসম্পদ হয়ে ওঠে যখন সে দেশ ও সমাজের ইতিবাচক কাজে আত্মনিয়োগে যোগ্যতা এবং সামর্থ্য অর্জন করে।